• দিল্লীতে গো-রক্ষকদের হুঁশিয়ারি, গরু জবাই করলেই গুলি: মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর রামলীলা ময়দান থেকে গরু জবাইকারীদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গো-মাতা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে শামিল হয়ে গতকাল (রোববার) রাজস্থান গো-রক্ষা কমান্ডো ফোর্সের সভাপতি এস এস টাইগার বলেছেন, যেখানেই গো-হত্যা হতে দেখা যাবে সেখানেই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হবে।

এস এস টাইগার বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না যে গো হত্যা করা হচ্ছে, মন্ত্রী ও নেতারা বোবা হতে পারেন, কিন্তু আমরা কী করব? যদি কেউ আমাদের মায়ের সঙ্গে অত্যাচার করে তাহলে কী আমরা বরদাস্ত করব? আমাদের মাকে যে হত্যা করবে আমরা তাকে ছাড়বো না।’

তিনি বলেন, যদি মোদিজি গো-মাতাকে ‘রাষ্ট্রীয় মাতা’ না ঘোষণা করেন এবং গো-হত্যায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি না করেন তাহলে আজকের পর থেকে আর কোনো আন্দোলন বা ধর্না-অবস্থান করা হবে না।  যেখানেই গোহত্যা হবে সেখানেই প্রকাশে গুলি করা হবে।

এস এস টাইগার বলেন, ‘আমরা সাফ জানাচ্ছি দেশের আইন চাইলে যা কিছু করতে পারে, আমাদের ফাঁসিতে দেয়া হোক বা কারাগারে পাঠানো হোক তাতেও রাজি কিন্তু গো-মাতাদের হত্যা বরদাস্ত করা হবে না।’তিনি বলেন, হিন্দুস্তান একশ’ কোটি হিন্দুদের দেশ যাকে সকলেই ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বলেন। 

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

এ প্রসঙ্গে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ রাজস্থান গো-রক্ষা  কমান্ডো ফোর্সের সভাপতি এস এস টাইগার যেভাবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে সম্মেলন করে গরু রক্ষার নামে যারা গরু জবাই করবে তাদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারার হুমকি দিয়েছে এরফলে আবার প্রমাণিত হল মোদি সরকারের আমলে গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি সবকিছুকেই তারা বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় ভারতের মতো গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যদি গরু জবাই করা আইনত অপরাধ হয়ে থাকে সেজন্য আমাদের দেশে বিশাল পুলিশ বাহিনী আছে, তারাই তো সেই অপরাধকে দমন করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু সেই বাহিনীকে কাজে না লাগিয়ে আলাদা করে ‘গো-রক্ষার নামে কমান্ডো ফোর্স’ তৈরি করা   ভারতের সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার কতটা পরিপন্থী তা অবশ্যই সরকার ও প্রশাসনকে দেখা উচিত। যারা প্রকাশ্যে গুলি করার হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার  মামলা হওয়া উচিত। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রকাশ্যে এসকল গুণ্ডাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে দেশের আইনকে লঙ্ঘন করছে।’

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দেশ ‘ধর্মনিরপেক্ষ দেশ’। সেটা যারা প্রকাশ্যে মাইকের মাধ্যমে বলে থাকে এটা হিন্দুদের দেশ তাদের বিরুদ্ধে সরকার কেন পদক্ষেপ নেবে না? এটা সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন। অবিলম্বে আমাদের ১৩০ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ যে সংবিধান আছে তাকে মর্যাদা দেয়ার জন্য মোদি সরকারকে কঠোর হাতে গোরক্ষার নামে যে বাহিনী তৈরি হয়েছে তারা দেশ জুড়ে যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, যে তাণ্ডব তারা একের পর চালিয়ে যাচ্ছে তা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। অন্যথায় গোটা দেশ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠবে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১৯

 

ট্যাগ

২০১৮-০২-১৯ ১৮:১৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য