ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে ক্ষমতাসীন জোট থেকে বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করায় রাজ্য সরকারের পতন হয়েছে। পিডিপি নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি পদত্যাগ করেছেন।

আজ (মঙ্গলবার) নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে জম্মু-কাশ্মির সরকার থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানান বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। এরপরেই রাজভবনে গিয়ে গভর্নরের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

রাম মাধব বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরে পিডিপি’র সঙ্গে পথ চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার থেকে সরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং কট্টরবাদ উপত্যকায় সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে খর্ব  করছিল।’

তিনি কাশ্মিরে গভর্নরের শাসনের পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পরে সংবাদ সম্মেলনে মেহবুবা বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলেছি, গায়ের জোর দেখানো নিরাপত্তা নীতি জম্মু-কাশ্মিরে চলবে না, সমন্বয়ই আসল কথা। আলোচনা, সমন্বয় ও বোঝাপড়ার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। কেবল ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর উদ্দেশ্য ছিল না।’

এদিকে, পিডিপি-বিজেপি জোট সরকারের পতন হওয়ার পরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

গুলামনবী আজাদ

ভালোই হয়েছে: আজাদ

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলামনবী আজাদ বলেছেন, ‘যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। ওরা কাশ্মিরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বেশ কিছু সৈনিক ও নাগরিক গত তিন বছরে নিহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ভুল স্বীকার করলে ভালো হবে।’

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ধ্বংস করার পরে বিজেপি কাশ্মির থেকে বেরিয়ে এল: কেজরিওয়াল

আম আদমি পার্টির প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘ধ্বংস করার পরে বিজেপি কাশ্মির থেকে বেরিয়ে এল। বিজেপি কি আমাদের বলেনি যে নোট বাতিলের ফলে কাশ্মিরে সন্ত্রাসবাদের কোমর ভেঙে গেছে? কিন্তু তারপর কী ঘটেছে?’ 

এটা হওয়া উচিত হয়নি: রফি আহমেদ

পিডিপি মুখপাত্র রফি আহমেদ মীর বলেছেন, ‘এটা তার জন্য খুব বিস্ময়ের ব্যাপার। আমরা বিজেপি’র সঙ্গে সরকার চালানোর চেষ্টা করেছি। এটা হওয়া উচিত হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের কাছে কোনো ইঙ্গিত ছিল না, এটাই অবাক হওয়ার বিষয়।’

অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ

আঁতাতটাই সঠিক ছিল না: ড. সাইফুল্লাহ

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এই যে আঁতাত হয়েছিল (পিডিপি-বিজেপি) এটা একেবারেই অবাস্তব আঁতাত। আমরা এটাই বলব যে, তেলে ও জলে মেশে না তা আমরা খুব ভালো করে জানি, কাজেই আঁতাতটাই সঠিক ছিল না। জাতীয় স্বার্থ, মানবতা অপেক্ষা রাজনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক আখের গোছানোর প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছিল বলে আমরা মনে করি। সুতরাং, যা ঘটার তাই ঘটেছে। এটা এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে নতুন করে আমাদের কিছু বলার নেই। একটা কথাই শুধু বলতে পারি জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও রাজ্যস্তরে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হোক যাতে এখানকার মানুষ অন্তত তাদের নুন্যতম মানবিক অধিকারটা পায়। এটা তো প্রতি পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে দড়ি টানাটানির খেলায়। আমরা শুভচেতনা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে ওইটুকুই প্রত্যাশা করব যে মানুষগুলোকে সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক।’     

শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘ওই জোট জাতীয়তা বিরোধী ছিল। আমাদের দলের সভাপতি বলেছিলেন ওই জোট চলবে না। যদি বিজেপি জোট অব্যাহত রাখত তাহলে ২০১৯ সালে তাদের জবাব দিতে হতো।’ #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৯

 

২০১৮-০৬-১৯ ১৯:৫৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য