ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় সেখানে গভর্নরের শাসন জারি হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ রাজ্যটিতে গভর্নরের শাসন জারির অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যটিতে ১৯৭৭ সাল থেকে এ নিয়ে এ পর্যন্ত আট বার গভর্নরের শাসন জারি হল।

গতকাল (মঙ্গলবার) পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার থেকে বিজেপি বেরিয়ে আসায় পিডিপি নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি গভর্নর এন এন ভোরার হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেস বা অন্য কোনোদল জোট সরকার গড়তে আগ্রহ না দেখানোয় সেখানে গভর্নরের শাসন কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। গভর্নরের রিপোর্টের ভিত্তিতে অবশেষে আজ সকালে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ গভর্নরের শাসনের ছাড়পত্র দিয়েছেন।

রাহুল গান্ধী

কাশ্মিরে সরকারের পতন সম্পর্কে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘সুবিধাবাদী বিজেপি-পিডিপি জোট’ জম্মু ও কাশ্মিরে আগুন জ্বালিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাজ্যে বহু নিরীহ মানুষ, সাহসী সেনা নিহত হয়েছেন। এতে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, ইউপিএ-র কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শাসনেও ওই ক্ষতি চলতে থাকবে।’ ‘অযোগ্যতা, ঔদ্ধত্য, ঘৃণার পরাজয় সবসময় হয়’ বলেও রাহুল কটাক্ষ করেছেন।

কিরেন রিজিজু

আজ (বুধবার) রাহুলের মন্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কাশ্মির সমস্যার জন্য জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করে বলেন, ‘সেখানে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কাশ্মিরি পণ্ডিতদের কেটে ফেলা হয়েছিল, এক লাখ ষাট হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। আপনার দল ও পরিবার কাশ্মিরকে ধ্বংস করেছে কিন্তু আপনি এখন বিজেপি’র দিকে আঙুল তুলছেন?’

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি দলের নানা নাম আছে। তার মধ্যে একটি হল ‘ব্যর্থ জুমলা পার্টি’ বা ‘ব্যর্থ ঝামেলা পার্টি’। ‘জুমলা’ মানে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দান। বিজেপি যা-যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, একটাও পূরণ করতে পারেনি। এখন তাদের হাতে একটি মাত্র তাস, তা হচ্ছে ধর্মের তাস। যে তাস তারা অতীতে খেলেছে। সফল হওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে যে,  মানবতাই সব থেকে বড় ধর্ম। গরীবের পেটে লাথি  মেরেছে বিজেপি, সেজন্য লোকেরাও বিজেপিকে লাথি মেরেছে। এখন সেজন্য মুসলিম তাস খেলার জন্য কাশ্মির এবং পাকিস্তান তাস খেলতে চায়। কাশ্মির শান্ত হয়ে গিয়েছিল, বুরহান ওয়ানিকে অকারণে হত্যা করে সে তাকে অশান্ত করেছে। আগামীদিনে তারা কাশ্মিরে গণহত্যা চালাবে। এবং পাকিস্তানের সঙ্গে পরিকল্পিত যুদ্ধ বাধিয়ে, একটা যুদ্ধ উন্মাদনা সৃষ্টি করে লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করবে। সেই লক্ষ্যেই তারা পিডিপি’র সঙ্গে জোট ছেড়ে পালিয়েছে। মেহেবুবা মুফতিও অতিলোভী, তারফলে বিজেপি’র মতো অতিসাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী দলের সঙ্গে তিনি হাত মিলিয়েছিলেন। সেজন্য তার হাত পুড়েছে এবং তাঁর দলেরও সম্মান নষ্ট হয়েছে ও আগামীদিনে আরো নষ্ট হবে।’

ড. ইমানুল হক

তিনি বলেন, ‘আগামীদিনে আমাদের একটাই প্রার্থনা যে, যুদ্ধ উন্মাদনার আবহের যে বাজনা  বিজেপি বাজাতে চলেছে তা থেকে আমরা এবং দেশবাসী যেন সতর্ক থাকি। আগামী দিনে কাশ্মিরে গণহত্যা হলে তাঁর বিরুদ্ধে যেন মুখ খুলি। যুদ্ধ হলে গরীব, কৃষক ও শ্রমিক  পরিবারের সন্তানরা বলি হন। খুব বড় লোকের ছেলেরা সরাসরি যুদ্ধ ক্ষেত্রে যায় না, লড়াইও করে না। আর নেতা, রাজনীতিক, মন্ত্রীরা তো এসি ঘরে বসে ভাষণ দেবেন কিন্তু মরবেন গরীব ঘরের সন্তানরা। বিজেপি’র ওই চক্রান্ত আমাদের ব্যর্থ করতেই হবে।’

আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মুখে জম্মু-কাশ্মির সরকার থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা লাভের চেষ্টা চালাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০

 

ট্যাগ

২০১৮-০৬-২০ ১৩:১২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য