• ভারতে ‘ফ্যাসিবাদ’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: আহমদ হাসান

ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ও ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান ফ্যাসিবাদী তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার মৌলালি যুব কেন্দ্রে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আহমদ হাসান ইমরান বলেন, ‘একটা ‘ফ্যাসিবাদ’ আমাদের দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যারা দেশের সংবিধানকে মানে না। মুখে বলছে, মানে কিন্তু কার্যত তারা সংবিধান মানে না। অনেকে মুখেও বলে দিচ্ছে, আমরা সংবিধান বদলে দেবো। সকলের সম্মতিতে সংবিধান তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় সংবিধান পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান।’

তিনি বলেন, ‘গোটা ভারতে বিরোধীদের ঐক্যের একটা চেষ্টা হচ্ছে। যে যেমন আছে থাকুক কিন্তু ‘ফ্যাসিবাদ’কে রুখে দেয়ার জন্য একটা বড় প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে একটা বড় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন এবং তিনি সবাইকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছেন।’

আহমদ হাসান বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে যে ব্যাপক সমস্যা ও সেখানকার মানুষজন যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সে সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জির খসড়া প্রকাশিত হলে দেখবেন তখন কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়! যারা এখানে ৮০/৯০ বছর ধরে আছেন, ব্রিটিশ শাসনামলে অখণ্ড অসমের সময় থেকে যারা রয়েছেন তাদের কোনো নথিকেই কর্তৃপক্ষ মানছেন না। এজন্য আমি বলব, অসমের সমস্যা আমাদের সমস্যা। অসমের পরে পশ্চিমবঙ্গকে তারা ধরবে। অসমের সমস্যা গোটা ভারতবর্ষের সমস্যা। কোনো নাগরিককে এভাবে তার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কিন্তু এসব আজ হচ্ছে।’

তিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দলিতদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা তুলে ধরে এসব ঘটনার নিন্দা জানান। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়নে যেসব কাজ এরইমধ্যে সম্পন্ন করেছে এবং যেসব প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে সেগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।

কোলকাতার বিশিষ্ট আলেম ও ইমামে ঈদায়েন কারী ফজলুর রহমান তার ভাষণে মিল্লাতে ইসলামিয়ার ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বআরোপ করে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক বিভক্তি আছে, ভাগ হয়েই যাচ্ছে, কিন্তু কবে আমাদের মাথায় আসবে যে আমরা মুসলিম! আমাদের মধ্যে যত ভাগই হোক না কেন, আমাদের কওমের কথা যখন আসবে, মিল্লাতের কথা যখন আসবে, উম্মতের কথা আসবে, তখন আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একথাগুলো যদি আমরা বুঝতে পারি, ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা নিজেদের সমস্যা থেকে সমাধানের দিকে এগোতে পারব।’

‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তার ভাষণে মুসলিম সমাজের বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য, বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তারা অতীতের মতো আগামী দিনেও সব অবস্থাতেই আন্দোলনের ময়দানে থাকবেন বলে জানান। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারের উদ্দেশে আহ্বান জানান।

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ১৯৯৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক হওয়া থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যেসব আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন তা তুলে ধরে আগামী দিনেও বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ে তারা বলিষ্ঠ অবস্থানে থাকবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘কুরআন-হাদিস শুধু মুসলিমদের জন্য আসেনি বরং এসবের মধ্যে গোটা মানবজাতির কল্যাণের দিশা রয়েছে। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে।’

কোলকাতার ওই সভা থেকে সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্টজনদের মানপত্র দিয়ে সম্বর্ধনা জানানো হয়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১১

 

ট্যাগ

২০১৮-০৭-১১ ১৮:৫০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য