ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করাকে কেন্দ্র ব্যাপক সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। লাল মুহাম্মদ (৪৫) নামে নিহত ওই ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

অন্যদিকে, মোজাফফর হোসেন নামে এক নির্দলীয় কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দালাল বস্তি নামে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী তাকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ।

আজ (শনিবার) সকালে পণ্ডিতপোঁতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ও পঞ্চায়েত প্রধান কে হবেন তা নিয়ে বিতর্কের জেরে তৃণমূল ও নির্দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটায় এক নির্দলীয় সমর্থক নিহত ও কমপক্ষে দশ জন আহত হন। আহতদের ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, ১১ আসনের ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস ৬টি ও নির্দলীয় প্রার্থীরা ৫টি আসনে জয়ী হন। পরে জয়ী নির্দলীয় সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান কে হবেন তা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। আজ দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বোমাবাজি, ইট, পাথর নিক্ষেপসহ গুলিবর্ষণের  অভিযোগ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ইসলামপুর ব্লক প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছে।

আলী আকবর

এ নিয়ে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আকবর আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন হয়েছে। তার মধ্যে ইসলামপুরে লাল মুহাম্মদ নামে এক সংখ্যালঘু মুসলিম বিরোধীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছেন। আমরা বিগত বাম সরকার এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে দেখছি সংখ্যালঘুরা বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক লেঠেল বাহিনীতে পরিণত হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা আদায় করে দেয়ার জন্য এরা একেবারে উঠেপড়ে লাগে এবং শেষপর্যন্ত প্রাণ বিসর্জনও দেয়! কিন্তু দেখবেন এরা ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছতে পারে না! এরা শুধুমাত্র অন্যদের ক্ষমতা আদায় করিয়ে দেয় কিন্তু নিজেরা ক্ষমতা থেকে অনেকটা দূরে থাকে। নিজেদের অশিক্ষা ও অজ্ঞানতার জন্য তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেঠেলবাহিনীতে পরিণত হয়ে নিজেদের প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। শিক্ষা ও সচেতনতা এলেই তবেই এসব দূর হতে পারে।’  

অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুরে কানকি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে বোর্ড গঠন করল ফরওয়ার্ড ব্লক। এখানে ২০ সদস্যের পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের জন্য ১১ সদস্যের দরকার হলেও কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ফরওয়ার্ড ব্লক সদস্যরা বিজেপিকে সমর্থন করে বোর্ড গড়েছে। যদিও বামপন্থি ঘরানার ফরওয়ার্ড ব্লক প্রথম থেকেই বিজেপি অথবা তৃণমূল কারো সঙ্গে জোট না করার ঘোষণা দিয়েছিল। এখানে বিজেপি ৭ আসনে, ৪ টিতে ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিএম ৩ এবং তৃণমূল ৩, কংগ্রেস ২ এবং ১ আসনে নির্দলীয় প্রার্থী জয়ী হন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

২০১৮-০৮-২৫ ১৯:৫২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য