• ক্ষমতা পেতেই ‘চৌকিদার’ দুর্নীতিতে ‘ভাগীদার’ হয়েছেন: কংগ্রেস

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ক্ষমতা পাওয়ার পরে ‘চৌকিদার’ এখন ‘ভাগীদার’ হয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে গতকাল (মঙ্গলবার) এলাহাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী ওই মন্তব্য করেছেন।

প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘২০১৪ সালের আগে নরেন্দ্র মোদি দেশে ঘুরে ঘুরে বলেছিলেন, আমাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’  করবেন না, আমাকে ‘চৌকিদার’ বানাবেন। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পরেই ওই চৌকিদার দুর্নীতিতে ‘ভাগীদার’ (অংশীদার) হয়ে সামনে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দুর্নীতি ওনার আমলেই হয়েছে। মোদি সরকার যুদ্ধ বিমানের দাম তিনগুণ বাড়িয়েছে। সাবেক ইউপিএ সরকারের আমলে প্রতিটি যুদ্ধবিমান ৫২৬ কোটি টাকায় ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু নয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে যখন ফ্রান্সে গিয়েছিলেন তখন ওই বিমান ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকায় ক্রয়ের চুক্তি করেছিলেন। এরফলে তার বন্ধু বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মোদিজির প্রতি আমাদের আহ্বান যে উনি  ‘মন কী বাত’ (মনের কথা) অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলুন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সংসদে মিথ্যা কথা বলেছেন যে, গোপনীয়তার শর্ত অনুযায়ী আমরা এ সংক্রান্ত চুক্তির মূল্য প্রকাশ করতে পারব না।’

কংগ্রেসের দাবি, ২০১২ সালের মূল্য অনুযায়ী ৩৬টি বিমানের দাম হওয়া উচিত ১৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যে মূল্যে ৩৬টি বিমান কেনার কথা ঘোষণা করেন সেজন্য সরকারকে অতিরিক্ত ৪১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা দিতে হবে। এই বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ কেন দিতে হবে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অবশ্য রাফায়েল ক্রয় চুক্তিতে কংগ্রেসের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে।  এমএলশর্মা নামে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে এ ব্যাপারে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে ওই চুক্তি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আজ (বুধবার) সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করে বিষয়টির দ্রুত শুনানিতে সম্মত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টে এ ব্যাপারে জনস্বার্থ মামলা গৃহীত হওয়ায় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফায়েল চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/ এমএএইচ/ বাবুল আখতার/৫ 

২০১৮-০৯-০৫ ১৫:০৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য