• ডা. ফারুক আবদুল্লাহ
    ডা. ফারুক আবদুল্লাহ

জম্মু-কাশ্মিরের জন্য বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-এ ধারা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হলে রাজ্যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কট করা হবে বলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন।তিনি আজ (বুধবার) শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছেন।

ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘৩৫-এ ধারা শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। উভয় সরকারকেই ৩৫-এ ধারার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন জানানো হয়েছে সে সম্পর্কে জোরালোভাবে সাফাই দেয়া উচিত। এ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হলে রাজ্যে শান্তি প্রচেষ্টা এগোবে না এবং আমরা ওই নির্বাচনে অংশ নেব না।’

জম্মু-কাশ্মিরে ৮ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যটিতে এখন গভর্নরের শাসন চলছে।

এদিকে, ৩৫-এ ধারা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল  (মঙ্গলবার) তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরের জন্য আলাদা সংবিধান অর্থহীন ও বিভ্রান্তিমূলক। কারণ, কোনোভাবেই দেশের সার্বভৌমত্বকে লঘু করা যায় না এবং তার অপব্যাখ্যাও করা যায় না।’

অজিত ডোভালের ওই মন্তব্যকে, একেবারেই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন কাশ্মিরের পিডিপি নেতা রফি আহমেদ মীর। তার এধরণের মন্তব্য  কাশ্মির সম্পর্কে উপত্যকার মানুষের ধ্যানধারণাকে আঘাত করেছে বলেও রফি আহমেদ মীর বলেন।

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা মুস্তাফা কামাল বলেছেন,  ‘কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ডোভালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। কেন্দ্রীয় সরকার  যদি এ ব্যাপারে নিশ্চুপ হয়ে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে ডোভাল সরকারের কথাটাই বলছেন।’

২০১৪ সালে আরএসএস প্রভাবিত এক বেসরকারি সংগঠন জম্মু-কাশ্মির থেকে ৩৫-এ ধারা বাতিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। সেই থেকে ওই ধারায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকার মধ্যে ওই ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৩৫-এ ধারা অনুযায়ী, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া কেউ সেখানকার সম্পত্তি বেচাকেনা করতে পারেন না। স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সরকারি চাকরি সংরক্ষিত থাকে। কোনো কাশ্মিরি নারী ভিন রাজ্যের কাউকে বিয়ে করলে তিনি রাজ্যে বিষয়-সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

ড. আব্দুস সাত্তার

এ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটা তো বিজেপি-আরএসএসের চিরায়ত সিদ্ধান্ত। এটা নতুন কিছু নয়। যেটা ফারুক সাহেব (ফারুক আবদুল্লাহ) বলেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। অজিত ডোভাল সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি তো সরকারের অঙ্গ। ফলে তার যদি কোনো মতামত আসে সেটা উপেক্ষনীয় নয়। কিন্তু যেটা ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, সেটাই সঠিক কথা।’ 

তিনি বলেন, ‘তারা চাইলেই রাতারাতি সবকিছু করতে পারবে তা নয়। ভারতের মানুষ জানেন যে,  কাশ্মিরের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটা কী ছিল, ৩৫-এ ধারা কেন ১৯৫৪ সালে সংযোজন করা হয়েছিল, কেন তাদেরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। বাইরের লোক ওখানে গিয়ে কোনো সম্পত্তি কিনতে পারবে না বা অধিকারী হতে পারবে না। এটা তো একটা ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট। ভারতে কাশ্মিরের অন্তর্ভুক্তির এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। স্বাভাবিকভাবেই ফারুক আবদুল্লাহ সাহেব যেটা বলেছেন, তা সঠিকভাবেই বলেছেন। ফারুক আবদুল্লাহ রাজনৈতিক ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত  নেবেন সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার যে অধিকার আছে তারা তা নেবেন। কিন্তু এটা হল চিরায়ত প্রশ্ন, এটা নতুন কিছু নয়। এখন অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে, ওরা সরকারে আছেন, সামনে নির্বাচন আছে, এই সরকারের চার বছর পার হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিজেপি ধীরে ধীরে কমছে। তারা পরাজিত হওয়ার ভয় পাচ্ছে বলেই এসব কথাবার্তা বলে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এরা কোন্ ভারত দেখতে চায়? ‘এ বাঞ্চ অব থটস’-এ গোলওয়ালকার যা বলেছেন, ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব’-এই স্লোগানের উপরে দাঁড়িয়ে তো তারা এগোতে চায়।’  ‘ওদের আসল স্বরূপ খসে পড়েছে। আর ঢাকার কিছু নেই, এবং এটাই বাস্তব অবস্থা’ বলেও মন্তব্য করেন ড. আব্দুস সাত্তার।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৫

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৫ ১৯:৩৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য