তপশিলি জাতি-উপজাতি নিগ্রহ দমন আইন সংশোধনের প্রতিবাদে ভারত বনধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) উচ্চবর্ণের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে  যৌথভাবে বনধের ডাক দেয়া হয়।

আজ বনধকে কেন্দ্র করে মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদী মানুষজন সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে আজ স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। রাজ্যটির দশ জেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আগামীকাল (শুক্রবার) পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৫ জেলায় উচ্চ সতর্কতা হারি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিহারের জাহানাবাদে বনধ সমর্থকরা পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সঞ্জয় সিং নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিহারের আরাতে বনধ সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ক্ষুব্ধ মানুষজন পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বিহারের বিভিন্ন জায়গায় সড়কের উপরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের নয়ডায় উচ্চবর্ণের বিভিন্ন গোষ্ঠী সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এসময় প্রতিবাদী মানুষজন মুখে কালো কাপড় বেধে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।  

বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রের ঠানেতে মানুষজন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিজেপিশাসিত রাজস্থানে মানুষজন সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জয়পুরে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।   

সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস

এসব প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দলিত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ও ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বাঙালি রিফিউজিস’–এর সর্বভারতীয় সভাপতি সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস আজ  (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘দলিতরা মনে করে তারা হিন্দু। কিন্তু যে ঘটনা আজকে ঘটছে তাতে এটা পরিষ্কার যে উচ্চবর্ণের সমাজ তারা দলিতদের উপরে আক্রমণই করতে চায়, নিগ্রহ করতে চায়, সেই অধিকার তারা চায়। যখনই তা বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে তখনই তারা এভাবে সহিংস হয়ে উঠছে। আমি কেবল দলিতদের বলতে চাই, তাদের বুঝতে হবে তারা আসলে ‘হিন্দু’ বলে যা বলছেন, সেই হিন্দুর মধ্যে ‘দলিত’রা পড়ে কী না। কারণ, এই যে উচ্চবর্ণের হিন্দুসমাজ বা আরএসএস-বিজেপি এরা হিন্দু বলতে নীচুজাতের হিন্দু দলিতদের বোঝায় না।  কোনোদিনই নয়। সেটা হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ-সহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে যেভাবে দলিত নিগ্রহ হচ্ছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। একইভাবে তারা যেভাবে মুসলিমদের উপরে আক্রমণ করছে, দলিতদের উপরেও সেভাবে আক্রমণ করছে। দলিতদের উপরে আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে যে আইন আছে সেটাকে তারা কোনোভাবেই রাখতে চায় না। ফলে দলিতদের বুঝতে হবে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গে তাদের মিলেমিশে থাকা সম্ভব কী না।’

এ ব্যাপারে তিনি নির্যাতিত দলিত ও মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপরে জোর দিয়ে দলিত-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হলে উচ্চবর্ণের সমাজ ওই আক্রমণ করতে পারত না বলে মন্তব্য করেছেন।

সুকৃতিরঞ্জন বাবু বলেন, ‘দলিতদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধের একমাত্র প্রতিকার হচ্ছে আক্রান্ত যে দুটো অংশ মুসলিম ও দলিতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আক্রমণের মোকাবিলা করতে হবে।’ অন্যথায় শুধু আইন বা আবেদন নিবেদনে কিছু হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৬       

 

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৬ ১৬:৫৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য