• ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থল বাণিজ্যের গতি মন্থর, ব্যবসায়ীরা বিপাকে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের গতি মন্থর হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আগে দৈনিক সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে গেলেও এখন তা দেড়শ’ থেকে দুইশ’র মধ্যে চলে এসেছে।  

গতকাল (বুধবার) পেট্রাপোল এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদক আব্দুল খালেক বিশ্বাস বলেন, ‘জিএসটি’র (পণ্য ও পরিসেবা কর) ফাঁদে পড়ে বহু ব্যবসায়ী দুর্ভোগে পড়েছেন।’ এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন।     

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা জিএসটি বাবদ ফেরতযোগ্য যে টাকা জমা দিয়েছেন সেই টাকা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত না পাওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা মার খাচ্ছেন। তারা পুঁজির অভাবে নতুনভাবে পণ্য রফতানি করতে পারছেন না। জিএসটি দিতে গিয়ে যদি কোনো ব্যবসায়ীর ৫০/৬০ লক্ষ টাকা চলেই যায় এবং তা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত না আসে তাহলে তিনি ব্যবসা করবেন কীভাবে? এরফলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন।’ 

আব্দুল খালেক বিশ্বাস বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক সংক্রান্ত নীতির কারণে আমরা অপেক্ষাকৃত কম দামে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাতে পারি না। সেক্ষেত্রে চীন কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে বিভিন্ন দফায় খরচ অনেক বেড়েছে যা অন্য বন্দরে নেই। এজন্যও ব্যবসায়ীরা পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দর এড়িয়ে অন্য বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।’

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে চাল, তুলো, লোহা ইত্যাদি বাংলাদেশে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি- রফতানির পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি চাল আমদানিতে অস্বাভাবিকভাবে শুল্কের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ২ শতাংশ থেকে বেড়ে তা ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া বাংলাদেশে ডলারের দাম বেশি এবং টাকার দাম কমে যাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’     

তিনি বলেন, ‘আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে বনগাঁর প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যের গতি মন্থর হওয়ায় অসংখ্য ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এরফলে, পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ট্রাক মালিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

কার্তিক চক্রব্রতীর অভিযোগ, ‘একই রাজ্যের মধ্যে হওয়া সত্ত্বেও পেট্রাপোল বন্দরে সরকারি নিয়মকানুনে কড়াকড়ি করা হলেও ঘোঁজাডাঙা বন্দর দিয়ে অত কড়াকড়ি নেই। যেমন পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ট্রাক প্রতি ১২ থেকে ১৭ টনের বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে পাঠানো যায় না। কিন্তু ঘোঁজাডাঙা দিয়ে ৪০ টন ওজনের ট্রাক গেলেও সেখানে কোনো সমস্যা নেই। এরফলে পেট্রাপোল বন্দর ছেড়ে দিয়ে অনেকেই অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এসব ছাড়া বিএসএফ, শুল্ক দফতর ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেও দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের গতি হারিয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রফতানির পণ্যের ৫৪ টি আইটেম বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে গেলে সেখান থেকে ঢাকার পরীক্ষাগারে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ীরা অনেক সমস্যায় ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েন যা অন্য বন্দরে নেই।’

বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর জন্য ওজন, চেকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রয়োজন বলে তিনি বলেন।

সীমান্ত বাণিজ্যে কার্যত ধস নামায় পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কমপক্ষে ৫ হাজার ট্রাক মালিক, আমদানি-রফতানির সঙ্গে যুক্ত প্রায় তিনশ’ ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কর্মী, মালামাল লোড-আনলোডে যুক্ত শ্রমিকসহ অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলবাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে হয়। কিন্তু বর্তমানে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর বাণিজ্যের গতি হারানোয় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৬

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৬ ২০:৩৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য