• সুপ্রিম কোর্ট
    সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে গণপিটুনি ইস্যুতে বিভিন্ন রাজ্যের ভূমিকায় সুপ্রিম কোর্ট ক্ষুব্ধ হয়েছে। গো-রক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গণপিটুনির ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে যেসব রাজ্য এখনো তথ্য দেয়নি তাদেরকে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট পেশের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

যেসব রাজ্য ওই সময়সীমার মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে পারবে না, সেই রাজ্যগুলোর স্বরাষ্ট্রসচিবকে আদালতে সশরীরে হাজির হতে হবে। একইসঙ্গে গণপিটুনির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সে সংক্রান্ত নির্দেশিকা সরকারি ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত শুনানিতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে সংসদে আইন তৈরি করার পরামর্শ দেয়াসহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াসহ নির্দেশিকা  জারি করতে বলে। কিন্তু এপর্যন্ত মাত্র ৯টি রাজ্য ওই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে।

গত ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট জানায় ‘গো-রক্ষার নামে কারো আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার নেই। বিভিন্নস্থানে গো-রক্ষার নামে সহিংসতা সহ্য করা হবে না। ভয় এবং অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের কর্তব্য।’

কিন্তু এরপরেও গত ২০ জুলাই রাজস্থানের আলওয়ারের গণপিটুনিতে আকবর খান নামে এক দুধ ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজস্থান সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেন তহসিন পুনাওয়ালা ও তুষার গান্ধী নামে দু’জন সমাজকর্মী। ওই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আজ রাজ্য সরকারগুলোর উদ্দেশ্যে রিপোর্ট পেশের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘গণপিটুনি না বলে এক গণশিকার বলা উচিত। ফ্যাসিবাদের একটা লক্ষ্য থাকে যে, এমনভাবে বিদ্বেষ তৈরি করো যাতে মানুষ অন্য ধর্মের, অন্য জাতের, অন্য বিশ্বাসের বা অন্য আচারের মানুষকে মিথ্যা অজুহাতে পিটিয়ে হত্যা করে। ভারতে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। গণপিটুনি নয় এটা হচ্ছে ‘সঙ্ঘী শিকার’। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ  (আরএসএস) জনতার নামে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যেখানেই এধরণের অপরাধ ঘটছে তার সঙ্গে আরএসএসের নেতারা আছেন। এগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'গোরক্ষার নামে গো-সন্ত্রাস নামিয়ে আনা হচ্ছে। এরা কেউ গরুরক্ষার লোক নন। সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। শুধু স্বরাষ্ট্র সচিবকে আদালতে হাজির হতে বলা নয়,  সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে হাজির হতে বলা উচিত। কারণ ওরা স্বরাষ্ট্র সচিবদের হাত-পা বেধে ফেলছেন। প্রশাসনের উপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নামিয়ে আনছেন, আমলাদের ভয় দেখাচ্ছেন। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ওরা ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন। আমি সুপ্রিম কোর্টকে সাধুবাদ জানাই। তারা অন্তত একটা সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছেন। মানুষের নজরে আনার চেষ্টা হয়েছে যে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে মিথ্যা কারণে। ভারতের গণতান্ত্রিক শান্তিপ্রিয় মানুষদের কাছে এটা আশার ইঙ্গিত।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৭

 

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৭ ১৭:৪৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য