ভারতের বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রে চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণসহ (কোটা) বিভিন্ন দাবিতে মুসলিমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মুসলিম আরক্ষণ মুক মোর্চা নামে সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ (রোববার) মহারাষ্ট্রের পুণেতে ওই মিছিলে বহু মানুষ শামিল হন।

হাজার হাজার মানুষ ‘মুসলিম সংরক্ষণ চালু করো’, ‘সংরক্ষণ তাদের মৌলিক অধিকার’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।  

মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন কিছুদিন আগে ষাটটি সংগঠন বৈঠকের মধ্য দিয়ে নিজেদের দাবিকে জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য অ্যাকশন কমিটি তৈরি করেন।   

বিক্ষোভ মিছিলে পুরুষদের পাশপাশি বোরকা ও হিজাব পরিহিতা প্রচুরসংখ্যক মুসলিম নারী অংশ নেন। মুসলিমরা বিগত কয়েক বছর ধরে পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। 

মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি ছাড়াও দেশে গণপিটুনির ঘটনায় ৭৮ জনেরও বেশি নিরপরাধ মুসলিমদের হত্যা করা হয়েছে দাবি করে অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি দেয়া, মুসলিম পার্সোনাল ল’য়ে সরকারি হস্তক্ষেপ না করা, ওয়াকফ সম্পত্তিতে অবৈধ নির্মাণ অপসারণ, মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘু সমাজের মানুষদের উপরে জাতীয় ও ধর্মীয় অত্যাচার দ্রুত বন্ধ করা, মুসলিম সমাজকে অত্যাচার নিরোধক আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা বহাল করা ইত্যাদির দাবি জানানো হয়েছে।    

মহারাষ্ট্রে সাবেক কংগ্রেস-এনিসিপি সরকারের আমলে মারাঠাদের পাশপাশি মুসলিমদের শিক্ষা ও চাকরিতে পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গেলে আদালত চাকরিতে পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণে স্থগিতাদেশ দেয়। কিন্তু শিক্ষায় সংরক্ষণে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। মুসলিম সমাজের নেতারা বলছেন, তারা অর্থনৈতিক ও অন্য ক্ষেত্রে অনগ্রসর হওয়ায় শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ দেয়া উচিত।  

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের মুসলিমদের ধন্যবাদ জানাতে চাই এজন্য যে স্বাধীনতার ৭১ বছর পরে পিছিয়ে পড়া হিসেবে সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতে শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের দাবিতে লাখ লাখ মানুষ পথে নেমে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে গোটা ভারতে একই সমস্যা। মুসলিম শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের বিভিন্নভাবে সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিচারপতি ‘রাজিন্দর সাচার কমিটি’র রিপোর্ট প্রকাশের মধ্য দিয়ে মুসলিমদের যে করুণ দুর্দশার কথা প্রকাশ্যে আসে তার ফলে দেশজুড়ে মুসলিমদের শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিগত কংগ্রেস সরকার এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। আজ সেই সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের জন্য মহারাষ্ট্রের মুসলিমরা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে যে আন্দোলনে নেমেছেন তা অত্যন্ত আনন্দের। শুধু শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ নয়, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে গোটা দেশজুড়ে অপব্যবহার ও জবরদখল চলছে। এক্ষেত্রেও মহারাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য পথে নেমেছেন তা অত্যন্ত ইতিবাচক।’  

তারা মহারাষ্ট্রের মুসলিমদের ওই আন্দোলনের পাশে আছেন জানিয়ে ‘প্রয়োজনে মহারাষ্ট্রের মুসলিমদের ওই আন্দোলনের সমর্থনে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন কোলকাতায় নেমে আন্দোলন করবে এবং তাদের সমর্থনে কোলকাতায় মিছিল করা হবে’ বলেও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯  

 

 

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৯ ১৯:২২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য