অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম না থাকবে তাদের ভোটাধিকার বাতিল করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। অন্যদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল গোটা দেশে এনআরসি কার্যকর করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল (সোমবার) ‘এনআরসি : ডিফেন্ডিং দি বর্ডারস, সিকিউরিং দি কালচার’ শীর্ষক আয়োজিত এক সেমিনারে বিজেপি নেতারা এসব মন্তব্য করেন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘বৈধ নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য এবং এনআরসি’র চুড়ান্ত তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হবে।’

বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, ‘এনআরসিতে সমস্ত অবৈধ  অভিবাসীদের চিহ্নিত করা যাবে। এরপর তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে এবং তাদের সমস্ত সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে। পরবর্তী ধাপে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।’

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল

রাম মাধব বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় নেয়া ও তাদেরকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশই অবৈধ অভিবাসীদের বরদাস্ত করে না। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে ভারত অবৈধ অভিবাসীদের ধর্মশালায় পরিণত হয়েছে।’

রাম মাধব প্রতিবেশী দেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেয়া এবং তাদের নাগরিকত্ব দিতে সরকার দায়বদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছেন।

এনআরসি থেকে বাদ পড়ায় উদ্বিগ্ন ৪০ লাখ মানুষ

গত আগস্টেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর এনআরসি থেকে বাদ যাওয়া কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছিলেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি ও বিধায়ক দিলীপ ঘোষ ভারতে অবৈধভাবে আসা বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে বলে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদেরকে ‘ঘাড় ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেয়া হবে বলেও তিনি সম্প্রতি মন্তব্য করেন।

ছোটন দাস

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওরা তো টার্গেট করেছেন বাংলাদেশকে, কিন্তু এপর্যন্ত অনেকবারই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু তারা একবারও কি প্রশ্নটা তুলেছেন যে আপনার দেশের বা বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে আছেন, একবারও তোলেননি। এম জে আকবররা যেটা বলছেন সেটা হল ওদের মনের কথা। সেটা হল ওয়ার্কিং ফোর্স হিসেবে- গোলওয়ালকারের ভাষায় ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ করে রাখা হবে। ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তি এসবের মোকাবিলা করবে। ওরা একবার এনিয়ে চেষ্টা করে দেখুন না।’

দশ বছর ধরে কেউ এখানে বাস করলে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান আছে এবং সংবিধানের কোথাও ‘ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব’ দেয়ার কথা নেই বলেও ছোটন দাস মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১১

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১১ ১৬:১৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য