• অমিত শাহ
    অমিত শাহ

ভারতে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, ‘বিজেপি’র সঙ্কল্প হল, এদেশে একজনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেবে না। তাদেরকে বেছে বেছে এখান থেকে বিতাড়ন করা হবে।’ গতকাল (মঙ্গলবার) বিজেপিশাসিত রাজস্থানের জয়পুরে দলীয় কর্মীদের এক সভায় তিনি ওই মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, গত (সোমবার) জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ইস্যুতে নয়াদিল্লিতে এক সেমিনারে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আশ্রয় ও তাদের নাগরিকত্ব দিতে সরকার দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি

এ ব্যাপারে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও দ্বীনি তালিমী বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘প্রথম কথা হল, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিরোধিতা শুরু থেকেই করে আসছে। অমিত শাহ কিছুদিন আগে  বলেছেন এনআরসিতে চল্লিশ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছে তারা সকলেই বিদেশি। আজকে আবার বলছেন বাছাই করে করে বার করবেন, কিছু রাখবেন। অমুসলিমদের এখানে নাগরিকত্ব দেবেন। আমাদের যেটা ধারণা এসবকিছুই ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। অমিত শাহ ও ওনার দল খুব ভালোভাবেই জানেন যে, ধর্মের নামে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন করে এখানে কাউকে আনতে পারবেন না এবং সেই বিলও (নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৬) তাদের জন্য পাস করা সম্ভব হবে না। তারা কোনো দিন তা করবেনও না, এ সম্পর্কে তাদের কোনো আন্তরিকতাও নেই। তারা কেবল আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা পাওয়ার জন্য মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন।’

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ওদের কাছে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। ওরা ২০১৪ সালের নির্বাচনে মানুষকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পাঁচ শতাংশও তারা পূরণ করতে পারেননি। আজকে ওরা মেরুকরণের মধ্য দিয়ে হিন্দু-মুসলিমের বিভাজন করা ছাড়া ওদের কাছে কোনো উপায় নেই। আমাদের বিশ্বাস, ভারতের মানুষ বিগত উপনির্বাচনগুলোতে ওদের দ্বিমুখী রাজনীতিকে বুঝতে পেরেছেন। সেই একই চাতুরালিতে তাদের কোনো ফল হবে না একথা ওদের মনে রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ যা বলছেন বা দিলীপ ঘোষরা ‘ঘাড় ধরে বের করে দেয়া’র যে কথা বলছেন, তাহল, বিজেপি’র গায়ের জোরের কথা। আমরা জানি ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। পৃথিবীর সেরা একটা সংবিধান আছে এখানে। সেই সংবিধানের গণ্ডির বাইরে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য মানুষ কথা বলতে পারে কিন্তু তারা কার্যকরী কিছু করতে পারবে না সে সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত। ’

‘ভারতের সংবিধান, ভারতের আদালত ও আইনের উপরে আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে এবং সেই বিশ্বাসের উপরে ভরসা করেই আমরা এদেশে আছি এবং আগামী  দিনেও থাকব’ বলেও মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১২

২০১৮-০৯-১২ ২০:০৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য