• অসমে এনআরসি থেকে লাখ লাখ মানুষকে বাদ দেয়া হয়েছে: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসির নাম করে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরের মতুয়াধাম ঠাকুরবাড়িতে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।    

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসমে কিছুদিন আগে (এমপি) মমতা বালা ঠাকুররা গিয়েছিল, তাদেরকে ঢুকতে দেয়া হয়নি, অত্যাচার করা হয়েছে। এনআরসি নিয়ে ওখানে সমস্ত বাঙালি খেদাও হচ্ছে, গুজরাটে বিহারী খেদাও হচ্ছে। আমরা কিন্তু এসব করি না। আমরা বলেছি, তোমাদের পাশে আমরা আছি, বাংলার মানুষ আছে। আমরা অসমে ‘বাঙালি খেদাও’ হলে তারা যেন মনে রাখে বাংলাটা তাদের ঘর, বাংলাও তাদের সাহায্য করবে। আমরা অসমের বিরুদ্ধে নই কিন্তু এনআরসির নাম করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় কথা বলাটা তো অপরাধ নয়!’

বাংলায় চিরাচরিত সম্প্রতি ও ঐক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে তপশিলি ভাই-বোনেরা, আদিবাসী ভাই-বোনেরা, সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা, সাধারণ ভাই-বোনেরা সবাই একসাথে আনন্দের সাথে, ভালোভাবে থাকে, তাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই।’ 

মমতা বলেন, ‘কেউ কেউ একসময় বাংলাদেশে থাকতেন, উদ্বাস্তু হয়ে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এসেছেন। ১৯৭১ সালে একটা চুক্তি হয়েছিল, আরেকটা চুক্তি ছিল, নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত যারা বাংলাদেশ থেকে যারা এখানে এসেছেন, তারা ভারতের নাগরিক। তাদের ভোটার তালিকায় নাম আছে, রেশন কার্ড আছে, জাতি শংসাপত্র আছে। নাগরিকত্বের পরিচয় কখনও কেড়ে নেয়া যায় না। যারা কেড়ে নিচ্ছে, তারা ভুল করছে। এনআরসির নাম করে প্রকৃত নাগরিকদের বাদ দিয়ে জঘন্য রাজনীতি হচ্ছে, নিম্নমানের রাজনীতি হচ্ছে, আমরা তা সমর্থন করি না।’

মুখ্যমন্ত্রী মতুয়া মহাসঙ্ঘের মুখ্যউপদেষ্টা বীণাপাণি ঠাকুরের (বড়মা) জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁকে প্রণাম করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এদিন বীণাপাণি দেবীকে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কার দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করেন।  

মতুয়ামতাদর্শকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভূঁয়সী প্রশংসা করে তিনিও মতুয়াদের একজন সদস্য বলে জানান। তিনি এদিন ঠাকুরবাড়ি উন্নয়ন পর্ষদসহ হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করার ঘোষণা দেন। এজন্য চাঁদপাড়ায় আট দশমিক আট একর জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া তিনি পর্যটন বিভাগ থেকে মতুয়াবাড়ির জন্য ২টি গেট তৈরী করা ও গোটা এলাকার রাস্তাঘাট আলো দিয়ে সাজিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।  ঠাকুরনগর একদিন যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় ও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেটাই লক্ষ্য বলে তিনি বলেন।  

এদিনের ওই সমাবেশে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও বনগাঁর সংসদ সদস্যা মমতা ঠাকুর, সংসদ সদস্যা কাকলি ঘোষদস্তিদার, সংসদ সদস্য অধ্যাপক সৌগত রায়, সংসদ সদস্য ও আইনজীবী ইদ্রিস আলী, সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদী, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস, দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মণ্ডলসহ তৃণমূলের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৫      

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

২০১৮-১১-১৫ ১৯:২৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য