২০১৮-১২-১৩ ১৯:৪৩ বাংলাদেশ সময়
  • ভারতকে ইসলামী দেশ করার চেষ্টা করবেন না: মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি

ভারতের মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বলেছেন, ভারতকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র তৈরির চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, পাকিস্তান নিজেকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ভারত সেকুলার রাষ্ট্র হয়েছিল। ভারতকেও সেসময় ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা উচিত ছিল।

গতকাল (বুধবার) বিচারপতি সেন এক মামলার শুনানিতে ওই মন্তব্য করেন। তাঁর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।  

‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা প্রসঙ্গে এনিসিপি নেতা মজিদ মেমন ওই বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি খুব দুঃখিত যে কোনও বিচারকের মানসিকতা এধরণের হতে পারে! উনি সংবিধানের শপথ নিয়েছেন এজন্য তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। বিচারপতি সেনকে এধরণের কথা বলা উচিত নয়।

ভারত বিভাজনের সময় কী পরিস্থিতি ছিল সেকথা বিচারপতির জানা উচিত। মনে হয় উনি ইতিহাসই পড়েননি। বিভাজনের সময় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মুসলিমরা জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। যেসব মুসলিমরা সেসময় পাকিস্তানে যাননি তার কারণ কেবল এটাই ছিল যে ভারত একটি সেক্যুলার দেশ এবং সেক্যুলার সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে।’  

অন্যদিকে, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বলেছেন, ‘আমি বিচারপতি সেনের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং

শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘আমাদের দল সব সময় বলে আসছে যে এটা হিন্দু রাষ্ট্র। এটা এজন্য যে, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন হয়েছিল। মুসলিমরা চেয়েছিলেন তাঁদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র, সেজন্য তাঁদের জন্য পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল। যেটা অবশিষ্ট আছে তা হিন্দুস্তান, হিন্দু রাষ্ট্র। এজন্য আদালতকে কোনও সার্টিফিকেট দেয়ার প্রয়োজন নেই।’ 

মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি

মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, বিচারপতি যিনি সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, এজন্য তিনি কোনও ভুল সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। তিনি বলেন, ভারত ইসলামি দেশ হবে না। ভারত এক বহুত্ববাদী ও ‘সেক্যুলার দেশ’ হিসেবেই থাকবে।

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘ভারত একটি ‘সেক্যুলার দেশ’, সেক্যুলার হিসেবেই থাকবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এক সেক্যুলার রাষ্ট্র তৈরি করেছিলেন, এজন্য আমাদের দেশের সেক্যুলার চরিত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ 

পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার/১৩

    

 

ট্যাগ

মন্তব্য