২০১৮-১২-২১ ২০:৩০ বাংলাদেশ সময়
  • বক্তব্য রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী
    বক্তব্য রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী

ভারতে ২০১৯ সালে দিল্লির সরকারকে পরিবর্তন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটা মানুষের সরকার তৈরি করতে হবে বলে ডাক দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এজন্য পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি লোকসভা আসনের সবকটিতেই তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।   

শুভেন্দু অধিকারী আজ (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সীমান্ত শহর বনগাঁয় দলীয় এক বিশাল জনসমাবেশে ওই আহবান জানান। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও রাজ্যের সমস্ত লোকসভা আসনে তৃনমূলকে জয়ী করার আহ্বান জানান।  

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র ১০/১২ টা কর্পোরেটের সরকার হতে পারে না। এই সরকার জনগণের সরকার হতে হবে এবং তার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক ও ধারক-বাহক আর কেউ নয়, তিনি হবেন সাড়ে সাত বছর ধরে ভারতকে পথ দেখানো আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ও আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীদিনে দিল্লিতে পরিবর্তন চাই। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড ময়দান ভরিয়ে ঐতিহাসিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমরা তা নেত্রীকে দেখিয়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘কোলকাতার ব্রিগেড ময়দানে আমরা স্বাধীনতার পরে আমরা সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সমাবেশ করব এবং ওই সমাবেশ থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার  ডাক দেবো। যদি আমরা মনে করি বিগত দিনের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন সেমিফাইনাল ছিল, তাহলে সেমিফাইনাল নির্বাচনে ইতিমধ্যেই বিজেপি ৫-০ গোলে হেরে গেছে। এরপরে ২০১৯ সালে আমাদের টার্গেট হবে বিজেপিকে যতটা সম্ভব নীচে নামিয়ে এই রাজ্য থেকে ৪২ টা আসন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে আমরা সংসদে পাঠাব। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা ও সাধারণ মানুষের উপরে যে অর্থনৈতিক অবরোধ, তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সমাবেশ হবে। আমরা জানি জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত সাড়ে সাত বছর ধরে মানুষের জন্য কত উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। বিজেপি ২০১৪ সালে স্লোগান দিয়েছিল, ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ (সকলের সঙ্গে সবার উন্নয়ন) কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে নীরব মোদির (বিদেশে পলাতক শিল্পপতি) সঙ্গে বিজেপি’র বিকাশ হয়েছে। ১১৬০ কোটি টাকা দিয়ে দিল্লিতে বিজেপি সেভেন স্টার পার্টি অফিস তৈরি করেছে! ওঁরা কারও কোনও কল্যাণ করেছে বলে আমাদের জানা নেই।’

শুভেন্দু বলেন, ‘ওঁদের বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। তিনশ’ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার এখন এক হাজার টাকা হয়েছে, রেলের ভাড়া ২২ শতাংশ বাড়িয়েছে, প্ল্যাটফর্ম টিকিট ২ টাকা থেকে ২০ টাকা করেছে। নোট বাতিলে কার লাভ হয়েছে? জিএসটিতে কার লাভ হয়েছে? পেট্রলের দাম প্রায় একশ টাকা ও ডিজেলের দাম প্রায় ৮০ টাকা প্রতি লিটার।  ভারতকে ওঁরা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নোট বাতিল করেছেন, অর্থমন্ত্রী ট্যাক্সের পরিবর্তন করেছেন, যোগি আদিত্যনাথ জায়গার নাম পরিবর্তন করেছেন। এজন্য মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থানের মানুষ বিজেপি সরকার বদল করেছে। আপনাদেরকেও ২০১৯ সালে দিল্লির সরকারকে পরিবর্তন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটা মানুষের সরকার তৈরি করতে হবে।’

সমাবেশে বনগাঁ কেন্দ্রের এমপি মমতা ঠাকুর, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক সুরজিত বিশ্বাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বীণা মণ্ডল, দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মণ্ডল, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যসহ তৃণমূলের বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১     

 

ট্যাগ

মন্তব্য