২০১৯-০২-২৩ ১২:০৯ বাংলাদেশ সময়
  • অসম রাইফেলস
    অসম রাইফেলস

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অসম রাইফেলসকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিধানসভায় ওই ইস্যুতে বিরোধীদলীয় বিধায়করা গতকাল (শুক্রবার) স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

সরকার পক্ষ এ নিয়ে সাধারণ আলোচনায় রাজি থাকলেও বিরোধীরা মুলতুবি প্রস্তাব এনে আলোচনার দাবি জানান। তবে স্পিকার হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী সেই দাবি খারিজ করে দেন। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ বিধায়করা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে অসম রাইফেলসকে ফৌজদারি প্রক্রিয়াবিধির আওতায় বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হল বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপের ফলে অসম রাইফেলসকে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে বা কোনো জায়গায় তল্লাশি চালানোর জন্য ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানার প্রয়োজন হবে না। উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম রাজ্যে অসম রাইফেলসের জওয়ানরা ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

দেবব্রত সইকিয়া

এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা দেবব্রত সইকিয়া বলেন, “এই বিশেষ ক্ষমতার ফলে সামরিক শাসন নেমে আসবে। সংবিধান স্বীকৃত চলাফেরার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র শামিল। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দাবি করছে উত্তর-পূর্বে শান্তি বিরাজ করছে, তখন কেন এই বিজ্ঞপ্তি জারি?”

বিধায়ক আমিনুল ইসলাম

এআইইউডিএফ বিধায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই বিজ্ঞপ্তির অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় এই অঞ্চলে যে আন্দোলনগুলো চলছে, সেগুলোকে  দমনের জন্য এই ক্ষমতা প্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের শেষ করতে বা নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে চলা আন্দোলন শেষ করে দিতেও এর প্রয়োগ হতে পারে।”

অন্যদিকে, অগপ বিধায়ক পবীন্দ্র ডেকার মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তি খুবই ভয়াবহ। এর ফলে গোটা অঞ্চলের মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। মৌলিক অধিকারগুলি লঙ্ঘিত হবে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রতিবাদ চলছে, সেকথা মাথায় রেখেই আধাসামরিক বাহিনীর হাতে এই বিশেষ ক্ষমতা তুলে দেয়া হয়েছে বলেও অগপ বিধায়ক পবীন্দ্র ডেকার দাবি।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৩

 

ট্যাগ

মন্তব্য