২০১৯-০২-২৫ ১৮:০৭ বাংলাদেশ সময়
  • জগদীশ মুখি
    জগদীশ মুখি

ভারতের অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) কাজ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের গভর্নর জগদীশ মুখি।

অনুপ্রবেশ বন্ধ করাই এনআরসি’র সবথেকে বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার অসম-বাংলাদেশ সীমান্ত ‘সিল’ করার কাজের গতি বাড়িয়েছে। খুব শিগগিরি নদী দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ইলেক্ট্রনিক বা বৈদ্যুতিন নজরদারি শুরু করা হবে। অসমে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

সীমান্তের ৯৩ শতাংশ জায়গায় এরইমধ্যে বেড়া দেয়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এবং বাকি অংশও সুরক্ষিত করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কোনো অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশির আর ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব নয়। বিদেশিদের শনাক্ত করা গেছে। এটা একটা বড় সাফল্য।’

তাঁর মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে মোদি সরকারের ভালো সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের আর্থিক বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে অসমে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত জানুয়ারিতে অসমের বিজেপি মুখপাত্র স্বপ্ননীল বড়ুয়াও বলেছিলেন, ‘বলা যেতে পারে গত দশ বছর বাংলাদেশ থেকে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি। অর্থনৈতিক কারনেই বাংলাদেশিরা অসমে আসছেন না। তাঁর চলে যাচ্ছে ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে। বিজেপির ওই মুখপাত্র সেময় তাঁর দাবিতে সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে একজন শ্রমিক রোজ বেতন পান তিন হাজার টাকা। ভারতে তারা সর্বোচ্চ পেতে পারেন এক হাজার টাকা। তাহলে বাংলাদেশিরা কেন অসমে আসবে।’

যদিও ২০১৪ সালে লোকসভা ও ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে অসমে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’ বিজেপির একটি প্রধান ইস্যু ছিল। এনআরসি তৈরির পেছনেও প্রধান উদ্দেশ্য হল অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা।

অসম সরকার গত বছর জুলাইতে এনআরসি’র খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ায় জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য