২০১৯-০৫-১৫ ১৩:১৬ বাংলাদেশ সময়
  • কোলকাতায় অমিত শাহ’র ‘রোড শো’ চলাকালে বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভাঙচুর, নিন্দার ঝড়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ’র ‘রোড শো’কে কেন্দ্র করে তুমুল গোলযোগ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা সাত টা নাগাদ কোলকাতায় অমিত শাহ’র ‘রোড শো’ চলাকালীন আচমকা দলীয় সমর্থকরা বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণি ক্যাম্পাসে ঢুকে গোলযোগ শুরু করে বলে অভিযোগ। এসময় একটি মোটরসাইকেল ও একটি সাইকেলে আগুন ধরানো হয়। ওই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা অভিষেক মিশ্রের অভিযোগ, তাঁরা কিছু করেননি। ক্যাম্পাসের ভেতরে ‘মোদি গো ব্যাক’ লেখা পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওরা পাঁচিল টপকে ঢুকে ইট ছুড়তে শুরু করে।’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-সমর্থকদের হাতে নিগৃহীত হলে তিনি আহত হয়েছেন।

বিদ্যাসাগর কলেজের প্রিন্সিপ্যাল গৌতম কুণ্ডু বলেন, ‘বিজেপি’র মিছিল থেকেই গোলযোগ হয়েছে। ওরা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।’

অন্য একটি সূত্রে প্রকাশ, অমিত শাহকে ‘কালো পতাকা’ দেখানোর জন্য কলেজ গেটের বাইরে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের সমর্থকরা পোস্টার নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ এসময় গোলযোগ এড়াতে বিজেপির প্রচারের ব্যানার দিয়ে তা আড়াল করার চেষ্টা করে। অভিযোগ, কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে পানির বোতল, আইসক্রিমের কাপ ছোড়া হয়। এরপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড উল্টে দিয়ে বিজেপি-সমর্থকেরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। কলেজের ভিতরে তুমুল ভাঙচুর চলে। আসবাবপত্র, কাচের সামগ্রী ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সহ-সভাপতি মণিশঙ্কর মণ্ডলের দাবি, তিনি ৬০/৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখাচ্ছিলেন। প্ল্যাকার্ড নিয়ে গো-ব্যাক ধ্বনিও দেওয়া হচ্ছিল। আচমকা কয়েক হাজার বিজেপি সমর্থক তাঁদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ওই ঘটনার পরে কোলকাতায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এদিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। রাতে পুলিশ এ ব্যাপারে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর

মমতা এদিন রাতে কোলকাতার বেহালায় দলীয় এক সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাথায় ফেট্টি পরা বিজেপির গুণ্ডারা হাতে ডাণ্ডা ও আগুন নিয়ে বিদ্যাসাগর কলেজে আগুন লাগিয়েছে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। এত বড় লজ্জা কখনো কোলকাতায় ঘটেনি। এমনকি নকশাল আমলেও এরকম ঘটেনি। আমরা এটাকে ছেড়ে দেবো না। বিজেপি’র বিরুদ্ধে এর ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব নেব।’

অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়’র দাবি, কোলকাতার মানুষ অমিত শাহজিকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। নিশ্চিত হারের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে হামলা করেছে তৃণমূল।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘আরএসএস-বিজেপি কোনোরকম চিন্তাভাবনা না করেই ঐতিহাসিক বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুর চালালো এবং বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দিল! এই কি ওদের ভারতীয় ঐতিহ্য রক্ষার নমুনা? তারা যে ধ্বংসাত্মক পথে এগোতে চাচ্ছে বাংলা তা খারিজ করে দেবে।’

সীতারাম ইয়েচুরি

রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘কলেজ স্ট্রিট চত্বরে যে গুণ্ডামির খণ্ডচিত্র বাংলার মানুষ দেখলেন তা বাংলার লজ্জা! গণতন্ত্রের সামান্যতম বোধটুকু থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল ওই ঘটনা ঘটাতে পারে না। যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল তাদের আর যাই হোক রাজনৈতিক কর্মী বলা যায় না।’ 

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) কোলকাতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৫  

ট্যাগ

মন্তব্য