ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন বিষয়ক যৌথ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমঝোতা লঙ্ঘন করে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত ১০ বছর মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা নবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা ছিল এবারের বৈঠকের উদ্দেশ্য।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ গতমাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে এই বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।  ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

মার্কিন সিনেট  গত ১ ডিসেম্বর ইরানের ওপর ২০ বছর আগে আরোপিত এক নিষেধাজ্ঞা আরো ১০ বছরের জন্য নবায়ন করে। ইরান সামরিক কাজে নিজের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালিত করছে বলে অভিযোগ তুলে ১৯৯৬ সালে ১০ বছরের জন্য ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।  

ওবামা প্রশাসন ইরানের ওপর আরো ১০ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা নবায়নের ব্যাপারে দাবি করেছে, সিনেট এটি নবায়ন করলেও প্রেসিডেন্ট ওবামা বিলটিতে সই করেননি; যদিও আমেরিকার আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই আইনটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপ ও এশিয়াসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন শুরু করতে পারছে না।  অথচ পরমাণু সমঝোতায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইরান যাতে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণার সময় এ সমঝোতা বাতিল করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।  এ সম্পর্কে ফেডেরিকা মোগেরিনি ভিয়েনা বৈঠকে একথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের পরমাণু সমঝোতা বহুপাক্ষিক; ফলে যেকোনো একটি দেশ এটি একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।

এ ছাড়া, এ বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্লাদিমির ভোরোনকভ বলেছেন, নির্বাচনি প্রচারের সময় অনেক কিছুই বলা যায় কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর তা বাস্তবায়ন করা কঠিন।  ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের পরমাণু সমঝোতাকে বাস্তবতার আলোকে দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে ইরানের পরমাণু সমঝোতার বাস্তবায়ন সম্পর্কে দু’টি মত রয়েছে।  প্রথমটি হচ্ছে- এ সমঝোতা নিয়ে এখন আর কোনো আলোচনা না করে এটির বাস্তবায়নকে ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেয়া।  আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে- এ সমঝোতার অন্যান্য পক্ষ অর্থাৎ রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। কারণ, এ সমঝোতা বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে এ সমঝোতায় জড়িত অন্যান্য পক্ষের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরান অবশ্য এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, কোনো অবস্থাতেই দেশটি পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন মেনে নেবে না।  প্রয়োজনে তেহরান এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্মরণাপন্ন হবে। বিশেষ করে এ সমঝোতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে বলে কোনো পক্ষ এটি লঙ্ঘন করলে এর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও সমঝোতায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১১

২০১৭-০১-১১ ১৮:৪৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য