• ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ইসলামী বিপ্লবী সরকারের গতিশীলতার প্রমাণ

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে গতকাল ইরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আজ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ড. হাসান রুহানি। তিনি ২ কোটি ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছেন মোট ভোটের ৫৭ শতাংশ।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভূমিকা, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা থেকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী সরকারের গতিশীলতা ও শক্তিমত্তার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। অতীতের চাইতেও জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ও নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ বহুগুণে বেড়েছে। জনগণের সমর্থন লাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এবং ফার্সি ৭০ ও ৮০ দশকের নির্বাচনের চাইতেও এবারের নির্বাচনে জনগণে অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন।

দেশে অর্থনীতিসহ বিরাজমান নানা সমস্যার ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মসূচিগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক মাত্রায় অংশগ্রহণ থেকে তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সচেতনতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবারই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়। এবারের নির্বাচনে ৭৩ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি থেকেই জনগণের আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ নির্বাচন এতটাই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ছিল যে, কে সর্বোচ্চ ভোট পাবে তা আগে থেকে ধারণা করা কঠিন ছিল।

ভোট কেন্দ্রগুলোর যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে, শত্রুদের ব্যাপক অপপ্রচার সত্বেও কোনো রকম উত্তেজনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুরা গত একমাস ধরে নির্বাচনকে ঘিরে এমন প্রচার চালিয়েছিল যাতে সহিংস ঘটনা ঘটে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শত্রুরা হতাশ হয়েছে এবং ইরানের জনগণের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার শক্তিমত্তা ফুটে উঠেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যেখানে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সংকট বিরাজ করছে না এবং নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ গণতন্ত্রের দাবিদার আমেরিকার কথাই ধরা যাক। আমেরিকায় নানা বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট অত্যন্ত প্রবল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিন্টনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থেকে তাদের তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ইরানও কোনো না কোনো সংকটে জর্জরিত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হওয়ায় জনগণকে এর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পছন্দ মতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে ইরানের ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যাতে নতুন সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “দেশের গন্তব্য জনগণের হাতে।"#           

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২০  

 

 

ট্যাগ

২০১৭-০৫-২০ ১৮:২৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য