ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, আফগানিস্তানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সংকট নিজেদেরকেই নিরসন করতে হবে এবং বিদেশিদের মাধ্যমে কখনই কোনো সমস্যার সুরাহা হবে না। তেহরান সফরকারী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফকে দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেছেন। এ সাক্ষাতে তিনি আরো বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিবেশীদের ব্যাপারে ইরানের নীতি হচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। এ নীতির আলোকে বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রভাবশালী দু'টি দেশ হিসেবে ইরান ও পাকিস্তান আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতার উন্নয়ন ঘটাতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফও তেহরানের এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, "এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে  বিরাজমান বিরোধ মীমাংশার ক্ষেত্রে ইরানের উপস্থিতিতে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং বিদেশীদের হস্তক্ষেপে কোনো সংকটেরই সুরাহা হবে না।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সব দিক থেকেই ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। কিন্তু এ অঞ্চলে চাপিয়ে দেয়া নিরাপত্তাহীনতা ও কোনো কোনো মহলের ষড়যন্ত্র এ দু'দেশের সম্পর্কের ওপর কখনও কখনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উদাহরণ স্বরূপ গত ২৬ এপ্রিল ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সন্ত্রাসীদের হামলায় ইরানের ৯ সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা যায়।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এ দুই দেশ ভূমিকা রাখতে পারে। অভিন্ন সীমান্ত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বিস্তার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দু'দেশের জনগণের নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনেও বিষয়টি স্বীকৃত। এরই আলোকে অভিন্ন সীমন্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি জরুরী বিষয়। তাই পাকিস্তান এ ব্যাপারে  যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে বলে ইরান প্রত্যাশা করে।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের ইসলামাবাদ সফর এবং বর্তমানে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদের নেতৃত্বে উচ্চ পদস্থ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দলে তেহরান সফর থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা বিস্তারে দু'দেশের গভীর আগ্রহের বিষয়টি ফুটে ওঠে। ইরান ও পাকিস্তানের এ ঘনিষ্ঠতা ও সহযোগিতা সন্ত্রাসবাদসহ আঞ্চলিক যে কোনো সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বর্তমানে এ দু'দেশের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে। কিন্তু এ পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পন রয়েছে।

যাইহোক, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরান ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। যেমনটি ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গেও ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রয়েছে। ইরানের চ'বাহার সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ভারত ও আফগানিস্তান উপকৃত হচ্ছে। তাই তেহরান ও ইসলামাবাদও সর্বাত্মক সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।#

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১২

 

২০১৭-০৯-১২ ১৫:২৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য