ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেয়া সাক্ষাতে বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুতে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতার ফলাফল একথাই প্রমাণ দিচ্ছে যে, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও তেহরান ও মস্কো নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, “সিরিয়াতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দিয়েছে এবং তারা সেখানে পরাজিত হয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই; কিন্তু তারপরও তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখায় সিরিয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ প্রতিরোধকে সফল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সিরিয়ায় নৈরাজ্য ও ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তেহরান ও মস্কোর যৌথ পদক্ষেপ অনেক অর্থপূর্ণ এবং এতে করে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্য ছাড়াও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ইরান ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পর্ক ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একই সঙ্গে ওই দেশে ইরানের প্রভাবশালী ভূমিকা সিরিয়ার রাজনৈতিক ও যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তেহরান-মস্কো গঠনমূলক সহযোগিতা বর্তমানে সিরিয়াকে সাফল্যের দ্বার প্রান্তে নিয়ে এসেছে এবং দায়েশ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কেবল সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আয-যোর এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সিরিয়ার সরকার, সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সহযোগিতায় ইরান ও রাশিয়া জোট গড়ে তোলায় সিরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের সব ষড়যন্ত্র কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ইসরাইল মাঝেমধ্যে সিরিয়ায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিজের শক্তিমত্বা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান ও রাশিয়ার সচেতনতা ও সহযোগিতার কারণে সিরিয়ার ব্যাপারে ইসরাইল, আমেরিকা ও তার মিত্রদের হিসেব নিকেশ পাল্টে গেছে এবং তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারপরও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সেদেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করা, পরাজিত দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া রাসায়নিক অস্ত্রকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

রাশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শাইয়্যেব বাহমান ইরানের টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, দায়েশ পরবর্তী সিরিয়া বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তেহরান সফর সবাইকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে, সিরিয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই সহযোগিতা শুধু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং সিরিয়ার সব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি তার দেশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সিরিয়ার ভাগ্য সেদেশের জনগণের ওপরই ছেড়ে দেয়া উচিত।#       

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২

 

 

ট্যাগ

২০১৭-১১-০২ ১৯:৪৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য