• আরবাঈন উপলক্ষে তেহরানে শোক শোভাযাত্রা (ফটো গ্যালারি)

ইমাম হোসেইন (আ.)’র শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী বা আরবাঈন উপলক্ষে তেহরানে প্রতিবছরের মতো এবারও শোক শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। তেহরানের ইমাম হোসেইন (আ.) চত্বর থেকে ২০ সফর বা ৯ নভেম্বরে বের হয়েছিল এমনই এক শোক শোভাযাত্রা। বিশাল এ শোভাযাত্রা ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শাহরেরেই'র শাহ আব্দুল আজিম (আ.)'র মাজার গিয়ে শেষ হয়।

বরাবরের মতোই এবারও সূর্যোদয়ের একটু পরই শুরু হওয়া শোক শোভাযাত্রায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। সব বয়সী এবং সব শ্রেণীর মানুষ ছিলেন শোভাযাত্রায়। এমনকি চলতে অক্ষম এমন অনেক নারী-পুরুষ হুইল চেয়ারে করে অংশ নিয়েছেন শোক শোভাযাত্রায়। অনেক মা-বাবা তাদের দুধের শিশুকে প্রামে করে নিয়ে এসেছেন।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মানুষদের জন্য খাবার এবং পানীয়'র আয়োজন ছিল। পূণ্যকামী মানুষ এ সব আয়োজন করেন। লাল চা, সাথে 'কান্দ' নামে পরিচিত কিউব সুগার, চকলেট মেশানো গরম দুধ, ফলের রসের অঢেল ব্যবস্থা করেন স্থানীয় পূণ্যকামী মানুষ। ‘অশ এবং ‘আদাসি নামে পরিচিত দুই ধরনের ইরানি স্যুপের সঙ্গে ‘লাবাশ এবং ‘বারবারি নামে পরিচিত দুধরণের রুটির ব্যবস্থাও ছিল। এ ছাড়াও নানা ধরনের ফল বিলি করেছেন শোকার্ত মানুষেরা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত পানির ব্যবস্থাও  ছিল।

গতবারের তুলনায় এবারে খাবারের আয়োজন অনেক বেশি ছিল। খাবারের আয়োজন এতটাই বেশি ছিল যে, অনেক স্থানেই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে জোর করে খাবার তুলে দেয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া, গোটা পথজুড়েই নানা স্থানে চিকিৎসক দলের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে রেড ক্রিসেন্টের প্রাথমিক চিকিৎসার দলকে।  শোভাযাত্রাকারীদের জরুরি প্রয়োজন মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিলেন তারা সবাই।

শোক শোভাযাত্রা আয়োজনকারীরা ভুলে যাননি বিশ্ব মুসলিমের দুর্ভোগের কথা। মিয়ানমারের মজলুম রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ তোলার আয়োজন করেছিল ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এ ছাড়া, নানা স্থানে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের দাবি জানানো শ্লোগানও চোখে পড়েছে। 

শাহরেরেই'র কাছাকাছি একটি স্থানে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিশাল আকৃতির পতাকা মাটিতে পেতে রাখা ছিল। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মানুষ এ পতাকা মাড়িয়ে দিয়েছেন প্রবল ঘৃণাভরে।

এদিকে, শোভাযাত্রায় খালি পায়ে অংশ নিয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত অনেকেই হেঁটেছেন খালি পায়ে। 

এ ছাড়া, রাস্তার অনেক স্থানেই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জুতা বিনা পয়সায় কালি করে দেয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন অনেক কিশোর এবং পূর্ণ বয়সী মানুষ। পূণ্যকামী এ সব মানুষের সেবার তুলনা হয় না।  কখনো কখনো জুতায় কালি দেয়ার জন্য রীতিমত জোর করেছেন তারা।

ইমাম হোসেইন (আ) এর পথই দ্বীনের নবি হজরত মোহাম্মদ(সা)'র পথ  এবং ইমাম  হোসেইন (আ.) পথই বিশ্বের মানুষ বিশেষকরে মজলুম মানুষের মুক্তির পথ- আবারও নতুন এ প্রত্যয়দীপ্ত ঘোষণা দিয়েছে এবারের আরবাঈনের শোভাযাত্রা।

ওই শোক শোভাযাত্রার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি তুলে ধরা হলো। ছবিগুলো তুলেছেন রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মূসা রেজা।

পার্সটুডে/মূসা রেজা/১০

 

২০১৭-১১-১০ ১৬:০৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য