রিয়াদ যখনই তেহরানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে তখনই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সুবিধাভোগকারী সরকারগুলোও একই ধরণের অভিযোগ করতে থাকে। সম্প্রতি ইয়েমেনি যোদ্ধারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর সৌদি কর্মকর্তারা এর জন্য ইরানকে দায়ী করে। এর কিছুদিন পর বাহরাইনের তেল পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে মানামা কর্তৃপক্ষ।

ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছে। অন্যদিকে তেল পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাহরাইনের দাবির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, বাহরাইনে যে কোনো ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করা দেশটির কর্মকর্তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের এটা জেনে রাখা উচিত এ ধরনের শিশু সুলভ আচরণ, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারিতার দিন শেষ হয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র ইরান-ভীতি ছড়িয়ে দেয়ারই প্রচেষ্টা। ধারণা করা হচ্ছে, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর আন্তর্জাতিক সমাজ এখন এটা বুঝতে পেরেছে কয়েকটি আরব ও পাশ্চাত্যের ইরান বিরোধী অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং ইসরাইলি লবির দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ইরানের বিরুদ্ধে ওইসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

সৌদি একনায়ক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সারা বিশ্বে ইরান-ভীতি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জেরে বহু সংখ্যক যুবরাজকে গ্রেফতারের ফলে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে তা ঢাকতেই নতুন করে ইরান বিরোধী প্রোপাগান্ডা শুরু করেছেন। তিনি বাহরাইনের স্বৈরাচারি সরকার কিংবা লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির মতো মিত্রদের সহযোগিতা দিয়ে ইরান-ভীতি ছড়াচ্ছেন। আর এসবই করা হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু করলে ইউরোপের কয়েক জন কর্মকর্তাও ওই ফাঁদে পা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে আমিরাত সফরকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দাবি করেছেন, ইরানের আঞ্চলিক তৎপরতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে হবে। তবে এটাও ঠিক যে এইসব হুমকি ও ইরান-ভীতি ছড়ানোর বিষয়ে তেহরানও নীরব বসে থাকবে না। কূটনৈতিক উপায়ে জবাব দেয়ার পাশাপাশি ইরানের কর্মকর্তাদের উচিত সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সহায়তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরা।

রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলো ও পাশ্চাত্যের সরকারগুলো ইরান বিরোধী প্রচার চালিয়ে এ অঞ্চলে নিজেদের অবৈধ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় শত্রুদের চিহ্নিত করে তাদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে এ অঞ্চলের সরকার ও জাতিগুলোর আরো সতর্ক থাকা উচিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #     

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৩

 

 

২০১৭-১১-১৩ ১৯:১৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য