• মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন
    মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন

"....প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিশ্ব শোষকদের জন্য প্রধান ভীতির কারণ হচ্ছে ইসলাম। কেননা, ইসলাম-ই হচ্ছে এমন এক শক্তি যা দুনিয়ার মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম।" -ইমাম খোমেনী (রহ.)। ইমাম খোমেনী (রহ.) এর প্রতি ভালোবাসার টান ও জানার আগ্রহেই রেডিও তেহরান এর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া।

সেই কবেকার কথা; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছি। পড়াশোনার সেই শৈশবের দিনগুলোতে বাড়িতে বাবার সঙ্গে রেডিও তেহরানের বাংলা খবর শুনতাম। সবার সঙ্গে রেডিও শোনা মানেই ছিল খবর ও নাটক শোনা। তখন ইরান ও ইরাকের যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের খবর ও একটু একটু করে বিশ্ব সম্বন্ধে জানা......সেই শুরু। এভাবেই মনের অজান্তে ইরানের প্রতি কৌতুহল বাড়ে। আর এই কৌতুহল-ই আকৃষ্ট করে রেডিও তেহরানকে।

আরো একটু বড় হয়ে একটি পত্রিকায় চোখ পড়ে –'নিউজ লেটার' পত্রিকা। এই পত্রিকার মাধ্যমে ইরান তথা ইমাম খোমেনী (রহ.) এর বিষয়ে জানার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়; আগ্রহ বাড়ে রেডিও তেহরানের প্রতিও। ক্রমেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর জীবন, ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আমাকে মুগ্ধ-আকৃষ্ট করে তোলে। এরই ফলশ্রুতিতে রেডিও তেহরানের গুণমুগ্ধ শ্রোতায় পরিণত হই।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনা, সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ, মজলুম মুসলমানদের কণ্ঠস্বর ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রচার মাধ্যম হিসেবে আমার প্রিয় বেতার কেন্দ্র রেডিও তেহরান। দিনের পর দিন প্যালেস্টাইনের মজলুম মুসলিম জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে বিরাজ করছে রেডিও তেহরান। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচনে এই বেতার কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।

(বামে) মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বর্তমান ছবি (ডানে) ১৫ বছর আগে তেহরান সফরকালের ছবি

'প্রিয়জন' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরাও আমাদের মনোভাবকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। উপস্থাপকদের সুললিত ও মুগ্ধ কণ্ঠে এসব মতামতপূর্ণ চিঠির ভাষা পৌঁছে যেত হাজার হাজার শ্রোতার কাছে। তখন যেহেতু কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না; তাই নিজের মতামতকে তুলে ধরার মাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান এক অমূল্য প্লাটফর্ম হিসেবে আমাদের মতামতকে স্থান দিয়েছে।

আমার মনে আছে ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রচুর চিঠি লিখতাম রেডিও তেহরানে। সেসময়ে প্রত্যেকটি 'প্রিয়জন' আসরে আমার চিঠি স্থান পেত। এসব অনুষ্ঠান টেপরেকর্ডারে রেকর্ডিং করেও রাখতাম। রেডিও শোনার সেই সোনালী দিনগুলোতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে তথা ইমাম খোমেনী (রহ.) এর বিপ্লবের দেশে যাবার স্বপ্ন দেখতাম। অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ শ্রোতা হবার সুবাদে অনেক সম্মান ও পুরস্কার ও পেয়েছি। "সার্টিফিকেট অফ মেরিট", শ্রেষ্ঠ শ্রোতাও নির্বাচিত হয়েছি রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে।

দীর্ঘ দিনের একনিষ্ঠ শ্রোতা হবার সুবাদে ২০০২ সালে রেডিও তেহরান আমাকে আমন্ত্রণ জানায় "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার" (IRIB) প্রথম রেডিও ও টিভি ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের জন্য। আমার স্বপ্নের দেশ ইরান ও রেডিও তেহরানকে নিজের দু'চোখ ভোরে দেখা ও উপলব্ধি করার এ অমূল্য অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতির মনিকোঠায় আজও জীবন্ত ও ভাস্বর হয়ে আছে।

উল্লেখ্য- এ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সেই সময়ে 'সাপ্তাহিক কলম' ও 'রংধনু'র ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।

চিঠি লেখা ও রেডিও শোনার এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে, যদিও এখন মতামত প্রকাশের অনেক মাধ্যম রয়েছে। তাই মাধ্যম বদলেছে মাত্র। তাছাড়া সংসার ও জীবিকার তাগিদে এখন রেডিও শোনায় ছেদ পড়লেও মাধ্যম বদলেছে মাত্র। কিন্তু রেডিও তেহরান ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি ভালোবাসা থেকে একটুও বিচ্যুত হইনি। এখনও ফেইসবুক ও ওয়েব পেইজে ঢুঁ মারি নিয়মিত; আঙুলের স্পর্শে নিংড়ে নিই বর্তমানের "পার্স টুডে"কে।

 

মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন,

বারুইপাড়া, মুর্শিদাবাদ 

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২

ট্যাগ

২০১৭-১২-১২ ১৯:৪৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য