২০১৮-০১-২৫ ১৮:৫৮ বাংলাদেশ সময়

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে বলেছেন, আমেরিকার ওপর ইউরোপের নির্ভরশীলতার অবসান ঘটানো উচিত। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কারো কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করা মোটেও ঠিক নয়। ইউরো চেম্বার্সের প্রধান ক্রিস্টোফ ল্যাথেল নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আমেরিকার স্বেচ্ছাচারী নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ইউরোপের উচিত আমেরিকার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নানা বিষয়ে আমেরিকার স্বেচ্ছাচারী নীতির ব্যাপারে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই কর্মকর্তার মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই প্রান্তের মধ্যকার ব্যবধান বেড়েছে যা পাশ্চাত্যে ভাঙনের আলামত। ফরাসি বিশেষজ্ঞ ম্যারি সাসিল ন্যাভেস বলেছেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার,  প্রতারণা ও জোরজবরদস্তি মূলকভাবে বহুকেন্দ্রীক বিশ্ব ব্যবস্থা অবসানের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন যা কিনা একান্তই তার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানির চ্যান্সেলরের দৃষ্টিভঙ্গি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি কৌশলের ঠিক বিপরীত। কারণ ট্রাম্প মনে করেন, বলদর্পী ও স্বেচ্ছাচারী নীতির মাধ্যমে অন্য দেশের ওপর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এর আগে আমেরিকা ও ইউরোপ আন্তর্জাতিক বহু বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ নীতি গ্রহণ করত। কিন্তু গত বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে একনায়কসূলভ আচরণ করা শুরু করেন যা কিনা ইউরোপের স্বার্থকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণেই আমরা ইউরোপীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের মুখে মার্কিন নীতির সমালোচনা শুনতে পাচ্ছি।

বর্তমানে বহু ইস্যুতে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বহু বিষয়ে ইউরোপের সঙ্গে ট্রাম্পের মতপার্থক্য দেখা দেয়ার পর শুধু যে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছেন তাই নয় একই সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকার কৌশলগত সহযোগিতার নীতিতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিষয়ে মতপার্থক্য থেকে বোঝা যায়, ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমেই ব্যবধান বাড়ছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, আবহাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা বাতিল করার চেষ্টার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধেও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে। ইউরো চেম্বার্সের প্রধান ক্রিস্টোফ ল্যাথেল মনে করেন, আমেরিকা অন্য দেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে তার প্রভাব ইউরোপেও পড়বে। যেমন ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যকার ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে এবং আগামীতে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য