ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি সিরিয়া বিষয়ে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের সহযোগিতার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তিন দেশের মধ্য কূটনৈতিক শলাপরামর্শ ও সহযোগিতার পরিমাণ আরো বাড়ানো উচিত। তেহরান সফরকারী তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুকে দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, এই দেশগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভৌগোলিক সীমানা অপরিবর্তিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে। আমাদের এমন পদক্ষেপ দেয়া উচিত যাতে প্রতিবেশী কোনো দেশই বিপদ ও হুমকি অনুভব না করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট এর আগেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে বলেছেন, সিরিয়ার উত্তরে অব্যাহত উত্তেজনা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয় এবং এ অঞ্চলের সব দেশেরই উচিত সিরিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে জোট গঠনকে সোচি শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, সিরিয়ায় যে কোনো দেশের সেনা উপস্থিতির আগে অবশ্যই দামেস্ক সরকার অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় তেহরান সফর করলেন যখন এ অঞ্চলে তুরস্কের কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে সিরিয়ায় তাদের সেনা উপস্থিতি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দিয়াকু হোসেইনি সিরিয়াসহ এ অঞ্চলের ঘটনাবলীতে প্রভাব সৃষ্টিকারী দেশগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন, কুর্দি ও তুর্কি সেনাদের মধ্যকার যুদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য ফের সুযোগ এনে দিতে পারে। এ ছাড়া, বিরাজমান উত্তেজনা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের সম্ভাবনাকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, "সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান সাময়িক এবং কেবল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেই সাড়াশি অভিযান চলানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সিরিয়ার ভূখণ্ডের প্রতি তাদের কোনো লোভ নেই।"

সিরিয়া পরিস্থিতি জটিল এবং সবসময় পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। এ অবস্থায় একদিকে আমেরিকা সিরিয়ার উত্তরে সামরিক হস্তক্ষেপ করছে অন্যদিকে তুরস্কও কুর্দি এলাকায় সামরিক অভিযান চালানোর কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই আরো জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের রাজনৈতিক ভাষ্যকার সাদেক মালেকি বলেছেন, "তুরস্কসহ গোটা ওই অঞ্চলের সংকট তীব্রতর হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান যেন কখনই সংকট সৃষ্টির কারণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। কারণ সংকট সৃষ্টি করা সহজ কিন্তু এ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।"

যাইহোক, বর্তমানে আঙ্কারা দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সোচি শহরে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়েও ইতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বিরাজমান মতবিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে ইরান ও তুরস্ক সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করেছে। নিঃসন্দেহে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এ অঞ্চলের সব দেশের মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।#                   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮

 

 

২০১৮-০২-০৮ ১৯:২৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য