ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং রাজনৈতিক চাপ কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে এ কর্মসূচি থেকে ইরানকে কেউ বিরত রাখতে পারবে না।

তেহরানে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাভীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের খেলার অংশ হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত হবে না। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অন্যায় আবদারের ব্যাপারে ইউরোপের সাড়া দেয়ার পরিণতির ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকে ইরান নানাভাবে শত্রুদের চাপ, হুমকি ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আসছে। শুধু ইরানকে ঠেকানোর জন্য আমেরিকা দেশটির চারদিকের সমুদ্র ও স্থল সীমান্তে অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। ইরানও এসব হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা শক্তিকে জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে।

এর আগে আমেরিকার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের ওপর ইউরোপের চাপ সৃষ্টির নীতির তীব্র সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শক্তিকে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ভূমিকার প্রশ্নে ইউরোপের উচিত হবে না আমেরিকার সঙ্গে তাল মেলানো। কারণ ইউরোপের মতো ইরানও আমেরিকার বলদর্পিত ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধী। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামিও বলেছেন, "তার দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না।"

ইরানের আট বছরের প্রতিরোধ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে দেশটি সমুদ্র, আকাশ ও স্থল পথে ব্যাপক সামরিক শক্তি অর্জন করেছে এবং যে কোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতার জন্য ইরান এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ইরান তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাভী এ ব্যাপারে বলেছেন, তার দেশ ইরানকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে মনে করে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানির সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, কোনো কোনো দেশ ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে চিন্তিত। অথচ ইরানের ব্যাপারে দুশ্চিন্তার কোনো কারণই নেই। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে এখন যে পরিস্থিতি তাতে আত্মরক্ষার অধিকার ইরানের রয়েছে।

ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ আহমাদ হোসেইনি বলেছেন, "শত্রুদের মোকাবেলায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলার অধিকার সব দেশের রয়েছে এবং এ ব্যাপারে যে কোনো উদাসীনতা ওই দেশটির জন্য বিপদ ডেকে আনবে।"

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, "ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে কোনো দেশের নিজস্ব ব্যাপার এবং কোনো দেশই এ ক্ষেত্রে আপোষ করতে পারে না।"#         

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮             

 

ট্যাগ

২০১৮-০৩-১৮ ১৯:০৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য