ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে সেদেশের ইসলামি শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকার অব্যাহত ও গভীর ষড়যন্ত্রের নানা কারণ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

তিনি পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে হলে ইউরোপের পক্ষ থেকে তেহরানকে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি পরমাণু ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের অতীত সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "ইউরোপের সঙ্গে আমাদের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই কিন্তু দেখা গেছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মুহূর্তে আমেরিকার পক্ষ নিয়ে কাজ করে।"

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যেকোনো নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপকে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিতে হবে উল্লেখ করে বলেছেন, "সবারই এটা জেনে রাখা উচিত নিজ অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তার দেশ কোনো ছাড় দেবে না।"

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ দেশটির বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতাতো কমেনি বরং আরো জটিল ও গভীর হয়েছে। আমেরিকার এ বিদ্বেষী আচরণের কারণ সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কয়েকটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা উৎখাতের জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবির জবাবে বলেছেন, "এটা নতুন কিছু নয় এবং তারা ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে পরমাণু সমঝোতার আগে বছরের পর বছর ধরে পাশ্চাত্যের সঙ্গে আলোচনা এবং পরমাণু সমঝোতার পরবর্তী ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "পরমাণু কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র এসবই অজুহাত মাত্র। বরং তাদের প্রধান শত্রুতা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী শাসন ব্যবস্থার সাথে।" 

শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সমাবেশে সর্বোচ্চ নেতা

বাস্তবতা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি ইরানের শক্তিশালী উপস্থিতি আমেরিকার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং এ অঞ্চলে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে ইরান বড় বাধা হয়ে আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ ব্যাপারে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের উপস্থিতি এবং এ অঞ্চলের নির্যাতিত জাতিগুলোর প্রতি অব্যাহত সমর্থন দেয়া আমাদের প্রধান নীতি। ইরানে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন এ নীতি থেকে কেউ সরে দাঁড়াবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, আমেরিকার যে কোনো শত্রুতাকে হাল্কাভাবে নিলে চলবে না। আমেরিকার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা সংকটে ইরানকে ব্যতিব্যস্ত রাখা যা কিনা বিপ্লব বিজয়ের শুরু থেকেই করে আসছে। এ প্রসঙ্গে, ইরাকের মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ ও অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা উল্লেখ করা যায়। যদিও আমেরিকা কোনোটাতেই সফল হয়নি। এ ছাড়া, ভেতর থেকে প্রতিবিপ্লব ঘটিয়ে এবং নরম যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ইসলামি সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নানা মিথ্যা অভিযোগ করে দেশটিকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে।

যাইহোক, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, ঐশী রীতি অনুযায়ী শত্রুদের পরাজয় নিশ্চিত এবং আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের পরিণতি বুশ ও রিগ্যানের মতো পূর্বসূরিদের চেয়ে ভালো কিছু হবে না এবং তাদের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। #   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪

 

ট্যাগ

২০১৮-০৫-২৪ ১৭:১৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য