১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন সরকার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাতা ও হুমকি মোকাবেলার কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটায়। এখনো তারা বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দাবি করছে।

আমেরিকা কিসের শান্তি ও নিরাপত্তার কথা বলছে তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর আমেরিকার আফগানিস্তান দখল এবং ইরাকে ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন এসবকি শান্তি প্রতিষ্ঠার নমুনা? এ ছাড়া, গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার প্রতি আমেরিকার সমর্থন এবং ইয়েমেনে গণহত্যা চালাতে রিয়াদকে ওয়াশিংটনের উস্কানি এগুলো কি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষণ? আমেরিকার এসব আচরণকে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, "চাপ সৃষ্টির মাধ্যমেই ইরানকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা যাবে।" তিনি আরো বলেছেন, "ইরান পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু আমি আপনাদেরকে এটা বলতে চাই খুব শিগগিরি নতুন করে চুক্তি করতে ইরান সম্মত হবে এবং আমরা ইরানকে বসে আনতে সক্ষম হব।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরণের কথাবার্তা হয় তার অজ্ঞতা প্রসূত কিংবা স্বেচ্ছাচারিতাসূলভ। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আমেরিকার সব সরকারই ইরানের জনগণের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। কিন্তু ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে বেশি আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করেন। তিনি সব কিছুতেই 'অবশ্যই' 'উচিত' এ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন মোড়লিপনার দিন শেষ হয়ে আসছে। মার্কিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক যা কিনা দেশটির কর্মকর্তাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি করবে।

যাইহোক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটা বোঝা উচিত তাদের ইচ্ছেমতো ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার যে স্বপ্ন তারা দেখছে তা কোনো দিনই বাস্তবায়ন হবে না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের ব্যাপক ষড়যন্ত্র এবং এর পর প্রেসিডেন্ট ওবামার ব্যাপক হুমকি ধমকি সত্বেও ইরান তার নীতিতে কখনই পরিবর্তন আনেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক শিল্প ও লজিস্টিক বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন দেহকান বলেছেন, "ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে আমেরিকা যখনই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করেছে তা বুমেরাং হয়ে উল্টো তাদেরকেই আঘাত করেছে এবং ইরানকে কাবু করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বরং ইরান তার অবস্থানে এখনো অটল রয়েছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যদি সামান্য রাজনৈতিক বিচার বুদ্ধি থাকত তবে এটা তাদের বোঝা উচিত ছিল যে, এমনকি কোনো দুর্বল দেশও এমন কারো কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নয় যে কিনা কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি ছাত্র ও শিক্ষকদের এক সমাবেশে মার্কিন অশুভ লক্ষ্য উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেছেন, আমেরিকার ন্যক্কারজনক আচরণে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিদ্বেষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, অতীতে যারা ইরানের সঙ্গে শত্রুতা করেছে তাদের অনেকের হাড়গোড় পচে মাটি হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্রাম্পও একদিন মাটির নীচে চলে যাবেন কিন্তু ইসলামি ইরান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭

 

 

ট্যাগ

২০১৮-০৬-১৭ ১৮:৩৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য