ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক নিবন্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কিছু অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তার দেশের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতার নানা দিক তুলে ধরে বলেছেন আমেরিকাকে অবশ্যই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত ২১ মে ইরানের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে গত ৪০ বছর ধরে ইরানের সঙ্গে তার দেশের দ্বন্দ্বের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি ইরানকে সন্ত্রাসীদের সমর্থক হিসেবে অভিহিত করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য এ দেশটিকে দায়ী করেন। আমেরিকা এখন অসৎ আচরণ, আগ্রাসী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনসহ আমেরিকার অতীতের সরকারগুলোর আচরণ সবসময়ই বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি ছিল। ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, একক আধিপত্য, হুমকি, ত্রাস ও চাপ সৃষ্টি করাই তাদের প্রধান নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের ইচ্ছেমতো শর্ত চাপিয়ে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন ইরানকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনা হবে। এ হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটা জেনে রাখা উচিত ইরানের জনগণ বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে সামরিক আগ্রাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন চাপ, সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন, একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এমনকি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার মতো বহু অমানবিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলা করে এসেছে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের জনগণের এ প্রতিরোধ এখন আরো বিস্তৃত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বের কারণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা দিয়ে তিনি ইরানের জনগণের সাথে বিদ্বেষী আচরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অপকর্মকে ধামাচাপা দিতে পারবেন না।

ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর প্রতি আমেরিকার সমর্থন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সহযোগিতায় ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যার পেছনে মার্কিন ভূমিকা, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধে সাদ্দামকে সব রকমের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করা, ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করে ২৯০ জনের বেশী আরোহীর সবাইকে হত্যা করা প্রভৃতি ইরানের জনগণের সঙ্গে মার্কিন সরকারের বিদ্বেষী আচরণের কিছু নমুনা। এ অবস্থায় এতোসব অপরাধ করে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা অভিযোগ তুলে নিজের অপকর্মকে ধামাচাপা দিতে পারবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ইরানের জন্য শর্ত আরোপ করার পরিবর্তে বরং তাদের উচিত এইসব অপরাধের বিষয়ে জবাবদিহিতা করা এবং ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেয়া। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১

 

ট্যাগ

২০১৮-০৬-২১ ১৮:৪৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য