মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ ইরানের তেল কেনার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছু দেশকে ছাড় দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে। এসব দেশের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, আগামী নভেম্বর মাসে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও কিছু দেশ ইরান থেকে তেল কিনতে দেয়ার যে অনুমতি চেয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখছে ওয়াশিংটন।

পম্পেও’র আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন।  আমেরিকার পক্ষ থেকে কিছু দেশকে ছাড় দেয়ার অর্থ এই যে, ছাড় পাওয়া দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলেও মার্কিন সরকার ওইসব দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষে  অবস্থান করছে। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় ইরানের তেল রপ্তানির ব্যাপারে পিছু হটলেন যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ড সফরে গিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশও তেল রপ্তানি করতে পারবে না।

রুহানির ওই হুমকির আগে ইরানের কাছ থেকে তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর আবেদনে সাড়া দিচ্ছিল না ওয়াশিংটন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট রুহানির হুমকি এবং গত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়ায় মার্কিন সরকার এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার চিন্তাভাবনা করতে রাজি হয়েছে। অথচ কিছুদিন আগ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছিলেন, ইরানকে এক ফোঁটা তেলও বিক্রি করতে দেয়া হবে না।

আমেরিকার এ হুমকির জের ধরে সৌদি আরবের মতো তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেল দাম হু হু করে বেড়েছে। তেলের দামের এই অস্থিতিশীলতা প্রমাণ করে, সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত সবগুলো দেশ একসঙ্গে মিলেও দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম নয়।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওপেকভুক্ত অনেক দেশ ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করেছে এবং এসব দেশ ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করতে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করতেও রাজি নয়।

ইউরোপের ব্লুমবার্গ পত্রিকা ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যর্থতা সম্পর্কে লিখেছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলো অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করেও দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারবে না। তেলের দাম কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে, ইরানের তেল খাতের ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

যাই হোক, আমেরিকা ইরানের তেল কেনার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছু দেশকে ছাড় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর নাও হয় তারপরও ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি ব্যর্থ হয়েছে। #

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১১

 

ট্যাগ

২০১৮-০৭-১১ ১৬:৫৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য