• ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেক
    ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এসব দেশের মার্কিন দূতাবাস কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরিবর্তে গুপ্তচরবৃত্তি, গুপ্তহত্যা ও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর কাজে বেশি ব্যস্ত ছিল।

এই যখন বাস্তবতা তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে দাবি করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস ওইসব দেশে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত রয়েছে। পম্পেওর এ দাবি প্রমাণ করে, আমেরিকা ও তার মিত্ররা বিশ্বব্যাপী ইরান-ভীতি ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি স্পর্শকাতর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরানের ইতিবাচক ভূমিকাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি পম্পেও’র অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ বলে বর্ণনা করেন।  তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই মার্কিন সরকার এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।”

ইরানের এ মুখপাত্র বলেন, মার্কিন দূতাবাসগুলো বরং বিশ্বের বহু দেশে অবৈধ গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে অসংখ্য গুপ্তহত্যা চালিয়েছে ও সামরিক অভ্যুত্থানে মদদ দিয়েছে।

মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে ইরান বিরোধী অভিযোগ করেন পম্পেও

তেহরানস্থ মার্কিন দূতাবাস ১৯৫৩ সালে ইরানের তৎকালীন মোসাদ্দেক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নেয়। মার্কিন দূতাবাসে বিশেষ সেল স্থাপন করে রাষ্ট্রদূত লুই হিন্ডারসন প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেকের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার তৎপরতা পরিচালনা করেন।  

এ ছাড়া, ১৯৮০ ও ৯০’র দশকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার বহু দেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের হোতা ছিল ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

আমেরিকা এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, লেবানন ও ইরাকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা যায়। এ দুই দেশের নির্বাচনের আগে দেশ দু’টিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এসব রাজনৈতিক নেতা যাতে নির্বাচনের ফল মেনে না নিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন সে লক্ষ্যে এসব তৎপরতা চালান মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক তৎপরতা চালানোর পর অন্য দেশের ব্যাপারে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার আমেরিকার থাকার কথা নয়। কিন্তু আমেরিকা যেমন নির্লজ্জভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তেমনি আরেকটি দেশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতেও লজ্জাবোধ করে না।

যাই হোক, বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইন মেনে ওইসব দেশে ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো পরিচালিত হচ্ছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিভ্রান্তিকর অভিযোগে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১২

 

২০১৮-০৭-১২ ১৮:২০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য