মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দেশটির ইরান বিরোধী তৎপরতা বহুগুণে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধের ডাক দিলেও আন্তর্জাতিক সমাজের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব ঠেকানো তার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এসব হুমকির জবাব ভালোভাবেই দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গত রবিবার ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "সিংহের লেজ নিয়ে খেলা করবেন না। কারণ ইরানের পাল্টা জবাবে আপনাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে।" এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "আমেরিকাকে আর কখনো হুমকি দেবেন না।" তিনি বলেন, "তেহরানকে এমন শিক্ষা দেয়া হবে, যা ইতিহাসে খুব কম সংখ্যক লোকই এর পরিণতি ভোগ করেছে।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব হুমকি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক হাসির খোরাক যুগিয়েছে। এমনকি মার্কিন ডেমোক্রেট দলের বহু নেতা ও গণযোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তিরস্কারের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। এইসব সমালোচনা ও তিরস্কারের মুখে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে পিছু হটে আসার আলামত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। একইসঙ্গে হেলসিংকিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সাক্ষাতে কিছু বিষয়ে কথাবার্তা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তাকে আড়াল করাও ট্রাম্পের ইরান বিরোধী বক্তব্যের উদ্দেশ্য নয় বলে হোয়াইট হাউজের এ মুখপাত্র দাবি করেন।" 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউজের এ নমনীয় অবস্থান থেকে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হুমকি দিলেও তেহরানের পক্ষ থেকে তিনি শক্ত প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরে আমেরিকার আগের প্রেসিডেন্টরাও নানাভাবে হুমকি ধমকি দিলেও ইরান কখনও মাথা নত করেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ টুইটার বার্তায় বলেছেন, "ট্রাম্পের এসব হুমকি ধমকিতে আমরা মোটেই ভীত নই।" তিনি বলেন, "কয়েক মাস আগেও বিশ্ববাসী আমেরিকার ফাঁকা হুমকি প্রত্যক্ষ করেছে এবং ইরানি জাতি গত ৪০ বছর ধরে এসব হুমকিতে অভ্যস্ত।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টারা আমেরিকার ইচ্ছে অনুযায়ী নতুন করে চুক্তিতে সইয়ের জন্য ইরানকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনার চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে একদিকে তারা ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্যদিকে জনগণের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে ইরানের ভেতরে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে।

যাইহোক, আমেরিকা এবার ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বললেও তার ইউরোপীয় মিত্ররা এর সঙ্গে একমত নয়। এর অর্থ দাঁড়ায় ইরান ইস্যুতে আমেরিকা একা হয়ে পড়েছে। এ কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউরোপের সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্রও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। # 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪

২০১৮-০৭-২৪ ১৭:৪৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য