ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ও অপরাধী আমেরিকার মূলনীতি হলো যুদ্ধকামিতা। তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা হলো এমন যে, মুসলমানদেরকে দিয়েই মুসলমানদেরকে হত্যা করা।

আজ (সোমবার) হাজিদের উদ্দেশে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, "আমেরিকা মজলুমের বিরুদ্ধে জালিমদেরকে উসকানি দিচ্ছে, জালিমদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, জালিমদেরকে দিয়ে মজলুমদেরকে নির্মমভাবে দমন করাচ্ছে এবং ভয়ানক বিভেদের আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে ও তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় মুসলমানদেরকে অবশ্য সতর্ক থাকতে হবে এবং সতর্কতার মাধ্যমে এই শয়তানি নীতি ব্যর্থ করে দিতে হবে। হজ হচ্ছে এই সতর্ক হওয়ার ক্ষেত্র। এটিই হচ্ছে মুশরিক ও সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে বারায়াত বা সম্পর্কচ্ছেদের দর্শন।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পূর্ণাঙ্গ হজবাণী নিচে তুলে ধরা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়াস সলাতুন আলা রাসূলিহিল মুস্তাফা। ওয়া আলিহিল আতহারুল আবরার ও সাহবিহিল আখইয়ার। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন: এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্যে ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে। যাতে তারা (হজ অনুষ্ঠানের মধ্যে) তাদের কল্যাণ প্রত্যক্ষ করে এবং যাতে তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে

আরশের পক্ষ থেকে আসা এই সুমধুর সুর এখনো মানুষের অন্তরগুলোকে  আহ্বান করে এবং যুগ যুগ ও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আল্লাহর একত্ববাদকে কেন্দ্র করে একস্থানে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানায়। পৃথিবীর সকল মানুষকে উদ্দেশ করে ইব্রাহিমি ঐতিহ্যের এই আহ্বান জানানো হয়েছে এবং তারা সবাই এজন্য গর্বিতঅবশ্য এমন অনেক কান আছে যেগুলো এই আহ্বান শুনতে পায় না এবং উদাসিনতা ও অজ্ঞতার চাদরে ঢাকা অন্তরগুলোও এই আহ্বান শোনা থেকে বঞ্চিত থাকে। এমন অনেক মানুষ আছে যারা সর্বকালীন এই বিশ্ব সম্মেলনে শামিল হওয়ার গৌরবোজ্জ্বল সুযোগ গ্রহণ করে না কিংবা যেকোনো কারণেই হোক এই সৌভাগ্য অর্জন থেকে বঞ্চিত থাকে।

আজ আপনারা এই মহা সৌভাগ্য অর্জন করেছেন এবং ঐশী আপ্যায়নের নিরাপদ উপত্যকায় পা রেখেছেন।  আরাফাত ও মাশআর ও মিনা, সাফা ও মারওয়া ও বেইত, মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন্নবীসহ হজের এই আনুষ্ঠানিকতার প্রতিটি স্থান আধ্যাত্মিকতা ও আত্মার ঊর্ধ্বলোকে আরোহনের সুশৃঙ্খল বিন্যাসের অংশ। এই মহা সৌভাগ্যের মর্ম উপলব্ধি করে তা নিজেকে পবিত্র করার কাজে লাগান এবং জীবনের বাকি দিনগুলোর জন্য পাথেয় হিসেবে সংরক্ষণ করুন।

যে বিষয়টি প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষকে অনুসন্ধিৎসু ও স্পর্শকাতর করে তোলে তা হচ্ছে, (হজের জন্য) সকল প্রজন্মের, সকল মানুষের ও প্রতিটি বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ; যে স্থানে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবাইকে একত্রিত হতে হয়।  স্থান ও কালের এই মিলন হচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম প্রধান রহস্য।  ‘যাতে তারা তাদের কল্যাণ প্রত্যক্ষ করে বলে কুরআনে যে কথা রয়েছে নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হচ্ছে আল্লাহর ঘর সংলগ্ন স্থানে মুসলিম উম্মাহর এই বাৎসরিক মিলনমেলা। আল্লাহর ঘরের নীচে সমবেত হওয়ার এই মহা অনুষ্ঠান হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য বজায় থাকার রহস্য এবং ইসলামের উম্মত তৈরির কৌশল। আল্লাহর ঘর সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত। পবিত্র কুরআনের ভাষায়: আমি (এই ঘর) প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে

হজ একই স্থানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর স্পষ্ট ও যৌক্তিক ভাষায় মুসলমানদেরকে ঐক্যের আহ্বান জানায়। কিন্তু এর বিপরীতে ইসলামের শত্রুরা সব সময়ই মুসলমানদেরকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়েছে এবং এখনও একই কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সাম্রাজ্যবাদী ও অপরাধী আমেরিকার আচরণের দিকে তাকান। ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের তাদের মূল নীতি হলো যুদ্ধকামিতা। তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রটা হলো এমন যে, মুসলমানদেরকে দিয়েই মুসলমানদেরকে হত্যা করা। তারা মজলুমের বিরুদ্ধে জালিমদেরকে উসকানি দিচ্ছে, জালিমদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, জালিমদেরকে দিয়ে মজলুমদেরকে নির্মমভাবে দমন করাচ্ছে এবং ভয়ানক বিভেদের আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে ও তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এ অবস্থায় মুসলমানদেরকে অবশ্য সতর্ক থাকতে হবে এবং সতর্কতার মাধ্যমে এই শয়তানি নীতি ব্যর্থ করে দিতে হবে। হজ হচ্ছে এই সতর্ক হওয়ার ক্ষেত্র। এটিই হচ্ছে মুশরিক ও সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে বারায়াত বা সম্পর্কচ্ছেদের দর্শন।

হজের রুহ বা আত্মা হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা। আমাদেরকে সব সময় আল্লাহর এই রহমতের বৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের মনকে প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে হবে। আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও বিশ্বাস হচ্ছে শক্তি, মর্যাদা, ন্যায়পরায়নতা ও সৌন্দর্যের মূল উৎস। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতাকে আমাদের মনে সুদৃঢ় করতে হবে। আর এভাবেই আমরা শত্রুর মোকাবেলায় বিজয়ী হতে পারব।

প্রিয় হাজিগণ, মুসলিম উম্মাহ এবং সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, বাহরাইন, লিবিয়া, পাকিস্তান, কাশ্মির ও মিয়ানমারসহ অন্যান্য অঞ্চলের মজলুমদের জন্য দোয়া করতে ভুলবেন না। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমেরিকাসহ সব সাম্রাজ্যবাদী এবং তাদের সমর্থকদের কালো হাত ভেঙে দেন।

ওয়াস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/সোহেল আহম্মেদ/আশরাফুর রহমান/২০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 

ট্যাগ

২০১৮-০৮-২০ ১৭:৪১ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য