• তৈরি হওয়ার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নুনে সাংগাক, সেঁকার আগে এতে দেয়া হয়েছে তিল।
    তৈরি হওয়ার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নুনে সাংগাক, সেঁকার আগে এতে দেয়া হয়েছে তিল।

ইরানে অন্যতম প্রধান খাদ্য রুটি। ফার্সিতে রুটিকে 'নান' বলা হয়। লোকমুখে এ শব্দ 'নুন'এ পরিণত হয়েছে। ইরানে সাধারণ ভাবে ঘরে রুটি বানানোর চল প্রায় নেইই। রাজধানী তেহরানে এ চল একেবারেই নেই। ইরানের রাজধানীর প্রতি মহল্লায় এক বা একাধিক 'নুনওয়াই' বা রুটি তৈরির দোকান আছে। ভোর থেকে শুরু হয় রুটি বানানোর পালা। দফায় দফায় বানানো হয় রুটি। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

'নুনে সাংগাক' ইরানের একটি ঐতিহ্যবাহী রুটি। নুড়ি-পাথরকে গরম করা হয় গ্যাসের আগুনে। তার ওপর সেঁকা হয় 'নুনে সাংগাক।' ফার্সিতে  পাথরকে ' সাং'  বলা হয়। আর 'সাংগাক' মানে 'নুড়ি।' এ রুটিতে তিল ছিটানো হয়। অবশ্য প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। রুটি তৈরির উপকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন না হলেও কোথাও কোথাও 'নুড়ি'র বদলে ঘূর্ণ্যমান লোহার তাওয়ায় সেঁকা হয় 'নুনে সাংগাক।' লোহার তাওয়ায় তৈরি 'পাথরে সেঁকা' রুটি! বিশাল তাওয়া ঘোরে বিদ্যুৎ শক্তিতে।  এ রুটির স্বাদের সঙ্গে বাংলাদেশে ঘরে তৈরি 'চাপড়ির' দূরাগত মিল খুঁজে পাবেন অনেক ভোজন রসিক।

তাওয়া থেকে বের করে আনা হচ্ছে 'নুনে লাবাস'

একই ভাবে ইরানের 'নুনে লাবাস' মুখে দিয়ে কিছুটা হলেও দেশি বেলি রুটির স্বাদ পাবেন যে কোনো খাদ্যপ্রিয় ব্যক্তি। পাতলা এ রুটি দেখতেও বেলি রুটি বা চাপাতির মতো।  সেঁকা হয় লোহার তাওয়ায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তন্দুরি বা 'নানরুটি'র সঙ্গে স্বাদে ও আকৃতিতে মিল রয়েছে 'নুনে তাবতুনের।' তাবতুনের 'তানোর' বা তন্দুর মাটির হলেও তাতে ব্যবহার হয় গ্যাসের আগুন।

সেঁকা শেষ 'তানোর' বা তন্দুর থেকে বের করে আনছে 'নুনে তাবতুনে'

'নুনে বারবারি'র মতো রুটি বাংলাদেশে তৈরি হয় না। আকারে এটি লম্বাটে বা চারকোণা হতে পারে। আকার যাই হোক, সেঁকার আগে এতেও দেয়া হয় তিলের ছিটা। পাথরের বা ঘূর্ণায়মান লোহার তাওয়ায় এ রুটি সেঁকা হয়। এখানেও গ্যাস পুড়িয়ে আগুন জ্বালানে হয়। আর লোহার তাওয়া ঘোরানোর শক্তি যোগায় বিদ্যুৎ।

পাথরের তাওয়ায় সেঁকা হচ্ছে 'নুনে বারবারি'
লোহার তাওয়ায় দেয়া হচ্ছে 'নুনে বারবারি'

ঐতিহ্যবাহী এ সব রুটি ছাড়াও তেহরানে আরো অনেক রকম রুটির দেখা মিলে। তেহরানের 'তোস্ত'কে আমরা পাউরুটি নামেই চিনি। স্বাদ বা আকৃতিও একই। এদিকে 'তোস্ত'এর সঙ্গে 'টোস্ট'এর ধ্বনিগত মিল নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে। বাংলাদেশে আমরা যাকে টোস্ট বিস্কুট বলি ইরানের কনফেকশনরিতে তাই বিক্রি হয় 'নুনে সোখারি' বা 'ভাজা রুটি' নামে। অন্যদিকে 'নুনে ফ্রান্সাভি' বা 'বাকেত' নামে লম্বাটে  যে রুটি বিক্রি হয় তার সঙ্গে  মিল রয়েছে বাংলাদেশের 'বন' রুটির। এ রুটি আকারে গোলও হয়।

ইরানে চালের গুড়ার দিয়ে তৈরি রুটিও পাওয়া যায়। এ রুটি মুখে দিয়ে বাংলাদেশে ঘরে তৈরি চালের গুড়ার রুটির স্বাদ পাবেন ভাবছেন! তা হলে হয়ত ভুল করবেন। তবে এ রুটি যে কোনো ব্যক্তির রসনাকেই তৃপ্ত করবে।

পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৫

 

 

 

 

২০১৮-০৮-২৫ ১৭:৪৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য