সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে তেহরান বৈঠকের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তবে সিরিয়ায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু ও পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকারে এ ব্যাপারে বলেছেন, কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে তেহরানে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে শীর্ষ  বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া পরিস্থিতি এখন স্পর্শকাতর অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চলছে এবং এ ব্যাপারে ইরান সহযোগিতা করছে।

আমেরিকার প্রচণ্ড চাপ সত্বেও ইরান সিরিয়াকে সমর্থন দেয়াতো কমায়নি বরং সর্বাত্মক সহযোগিতা বজায় রেখেছে এবং এ অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সংবিধানের ১৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মোকাবেলায় বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইরান সরকারের কর্তব্য।

নিরাপত্তাগত কারণে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ইরাক ও সিরিয়ার গুরুত্ব ইরানের কাছে অনেক বেশি। এই দুই দেশ যদি পাশ্চাত্য ও কয়েকটি আরব দেশের সমর্থনপুষ্ট তাকফিরি সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যায় তাহলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এ ক্ষতির বিষয়টিকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, ইরানসহ এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে দুর্বল করা পাশ্চাত্য ও তাদের মিত্রদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাদের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, জাতীয়তার ভিত্তিতে এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে বিভক্ত করে দখলদার ইসরাইলের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।

মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এ ব্যাপারে বলেছেন, সিরিয়া বিষয়ে তেহরানে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোনো রকম প্রাণহানি ছাড়াই ইদলিব থেকে সন্ত্রাসীদেরকে হটিয়ে দেয়া। তিনি বলেন, আস্তানা বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে তেহরানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান তেহরানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নিবেন। এ শীর্ষ সম্মেলন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতায় ইরাক ও সিরিয়ার সেনাবাহিনী দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে।

ইরানের নূর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ড. আসাদুল্লাহ যারেঈ মনে করেন, "বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে এবং কোনো কিছুই ইরানকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না। এ ছাড়া, ভূ-কৌশলগত দিক থেকেও ইরান বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।"

যাইহোক, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরান ও রাশিয়া সিরিয়ায় অবস্থান করছে যা সম্পূর্ণ বৈধ এবং আইনসঙ্গত। ইরান ও রাশিয়ার উপস্থিতির ব্যাপারে আমেরিকা তীব্র আপত্তি জানালেও সেদেশে কারা থাকবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে সিরিয়া সরকারের হাতে।#      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫

 

২০১৮-০৯-০৫ ১৯:১১ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য