জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী আমেরিকা তার অন্যায্য ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক একতরফা নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে অপব্যবহার করছে।

ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে আসন্ন বৈঠকের ব্যাপারে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রতিনিধি এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা নিরাপত্তা পরিষদে তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে যাকিনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞায় ভয়ভীতি সৃষ্টি ও জোর-জবরদস্তিমূলক।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ব্যাপারে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময় এ বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে যখন ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে আসার পর ইরানের বিরুদ্ধে তার বিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ও অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। আর এভাবে তিনি ইরান আতঙ্ক সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এদেশটিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। আমেরিকা একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য ব্যাপক চেষ্টা শুরু করেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা আসলে আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরান ইস্যুতে ব্যস্ত রেখে মধ্যপ্রাচ্যের আসল সমস্যা অর্থাৎ দখলদার ইসরাইলের বিষয়টিকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। যাতে আরব মিত্রদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়। ইসরাইলকে টিকিয়ে রাখার জন্যই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামক পরিকল্পনা অনুযায়ী তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তরের পাশাপাশি ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য দেয়া সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছেন। ইসরাইলের স্বার্থেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধেও উঠে পড়ে লেগেছেন এবং ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আরব দেশগুলোর কাছ থেকে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করছেন।

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অন্য দেশকেও বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা স্বেচ্ছাচারিতা ও বলদর্পিতার আশ্রয় নিয়েছে যা কিনা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ব্যাপারে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি গোলাম আলী খোশরো সাধারণ পরিষদে "শান্তির সংস্কৃতি বিকাশ" শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও স্বেচ্ছাচারিতা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।"

যাইহোক, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা চরম বিদ্বেষপ্রসূত এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। কিন্তু তাদের এটা জেনে রাখা উচিত গত ৪০ বছরে আমেরিকার মোকাবেলায় ইরান এক চুলও পিছু হটেনি বরং এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইরানের শক্তি-সামর্থ্য সারা বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার সেবায় নিয়জিত। সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের ভূমিকা এ সত্যই তুলে ধরেছে।#       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬

 

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৬ ১৮:০০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য