ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী নৌবাহিনীর ক্যাডেটদের স্নাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার জন্য পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নানা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে গৃহযুদ্ধ বাধানো, সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানো এবং ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। আরো দুঃখজনক হচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ তাদেরকে সহযোগিতা করছে।" মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম শক্তির উত্থান ঠেকানো আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের প্রধান উদ্দেশ্য এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "শত্রুরা ভালো করেই জানে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে বঞ্চিত ও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো। এ কারণেই তারা মুসলিম শক্তির উত্থানে ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।" তিনি বলেন, "ইসলামি ইরানের সরকার ও জনগণ স্পষ্ট ভাষায় এবং কোনো গোপনীয়তা বজায় না রেখে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আর এটাই ইরানের বিরুদ্ধে জুলুমবাজ সরকারগুলোর শত্রুতার প্রধান কারণ।"

যাইহোক, ইরানের নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরসহ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় নিজেদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। যেখানেই নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন হবে সেখানেই ইরান তার উপস্থিতি বজায় রাখবে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় বলেছেন, আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট ইরানের পানিসীমাসহ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।"

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি

গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, সামরিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জাতিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাধানো আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে তারা কৌশলগত এ অঞ্চলের ওপর প্রভাব বিস্তার করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা, কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি এবং এ অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর প্রতিরোধ শক্তিগুলোর তৎপরতাকে আরো জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রমাণ করেছে ইরানসহ এ অঞ্চলে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, ইরানের সরকার ও জনগণ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে, "জাতিগুলো যদি বলদর্পী বৃহৎ শক্তিগুলোকে ভয় না পেয়ে এবং নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে শত্রুরা পিছু হটতে বাধ্য হবে এবং পরাজিত হবে।" উদাহরণ হিসেবে তিনি সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননের কথা উল্লেখ করেন যেখানে মার্কিন সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়েছে।

যাইহোক, ইসলামি ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট ইরানসহ আন্তর্জাতিক পানি সীমায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে সক্ষম হয়েছে যা এ অঞ্চলের সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৯ ১৯:১৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য