ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণ যদি চায় তাহলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সব রকম সহযোগিতা দিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। তিনি গতকাল রাজধানী কাবুলে দেশটির জাতীয় ঐক্য সরকারের নির্বাহী প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইরানের পক্ষ থেকে সহযোগিতার এই আশ্বাস দেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাবুলে ভারতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় গোকুল ও আফগানিস্তানের উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী হেকমত খালিল কারজাই এর সঙ্গ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে আঞ্চলিক বিষয়াদি ছাড়া ছাড়াও এই তিন দেশের কর্মকর্তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

ইরান আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকে নিজের নিরাপত্তা বলে মনে করে এবং দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মোকাবেলায় সহযোগিতা করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়েও চুক্তি সই হয়েছে যা কিনা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাবুলে অনুষ্ঠিত ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পরিবহন যোগাযোগ বৃদ্ধি, চ'বাহার বন্দর ব্যবহার, খনিজ সম্পদ আহরণ, পুঁজি বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক চুক্তি সই হওয়া থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই তিন দেশ সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

ইরানের চ'বাহার সমুদ্র বন্দর ব্যবহারে ইরান, ভারত ও আফগানিস্তানের পদক্ষেপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের সুযোগ এনে দিয়েছে। চ'বাহার বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে এই তিন দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তার ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথ ব্যবহারে আফগানিস্তানের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এ সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেয়া উচিত।

সমুদ্র পথ ছাড়াও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইরান এ অঞ্চলে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আফগানিস্তানের নির্বাহী প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ  আফগান সরকার ও জনগণের জন্য ইরানের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেছেন, "তার সরকার ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এছাড়া, এই দুই দেশ এ অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।" তিনি বলেন, "আফগানিস্তানে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও মাদকের বিস্তাররোধে তেহরান আমাদের পাশে রয়েছে। আফগানিস্তানে মাদক চাষ ও উৎপাদন এ অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ, মাদকদ্রব্য, অভিবাসন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে ইরান ও আফগানিস্তান বহু সমস্যার সমাধান করতে পারে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বিরাজমান সুযোগকে কাজে লাগানো সবচেয়ে জরুরি বিষয়। ইরানের উপপররাষ্টমন্ত্রীর কাবুল সফর এবং ভারতের সঙ্গে এই দুই দেশের ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১২ ১৮:১৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য