মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে তাদের ভাষায় একটি স্বাভাবিক দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী মেডিয়া বেঞ্জামিন বলেছেন, "আসুন আমরা সবাই বিশ্বের স্বাভাবিক দেশগুলোর ব্যাপারে আলোচনা করি। আসুন আমরা সৌদি আরবের ব্যাপারে কথা বলি যে দেশটি বিশ্ব সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।" তিনি বলেন, "ইরান নয় বরং সৌদি আরবই বিশ্বের জন্য হুমকি।"

আমেরিকার এই যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের কর্মী এমন সময় সৌদি আরবকে নিয়ে এসব কথা বলেছেন যখন মার্কিন সরকারের কথিত 'ইরান অ্যাকশন' গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক বুধবার হাডসন ইন্সটিটিউটে এক বক্তব্যে বলেছেন, "২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের দিন থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধতো হয়নি বরং দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।" মার্কিন এ কর্মকর্তা এমন সময় একথা বলেছেন যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রতিবেদনে বহুবার বলা হয়েছে পরমাণু বিষয়ে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলছে।

মার্কিন সরকারের কথিত 'ইরান অ্যাকশন' গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক

মার্কিন কর্মকর্তারা এমন সময় ইরানকে যুদ্ধকামী ও সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তুলছে যখন এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান মিত্র সৌদি আরব যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে নারী শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। দায়েশ, আলকায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। এমনকি নিজ দেশের ভেতরেও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না এবং তারা যুদ্ধকামী।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। এরপরও ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সৌদি আরবের সঙ্গে সর্বোচ্চ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এমনকি তিনি প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যান এবং রিয়াদের সঙ্গে ১১ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করেন। রিয়াদের যুদ্ধকামী নীতির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কারণে সৌদি আরব বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা প্যাট্রিক ওয়েলকান বলেছেন, "আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সৌদি আরব ও ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে সারা বিশ্বে যুদ্ধ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার কাজে সহযোগিতা করছে।"

সৌদি আরব এমন সময় মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত যখন ওয়াশিংটনের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোও সৌদি নীতির সমালোচনা ও দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের কথা বললেও তারা রিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করছে। উদাহরণ স্বরূপ জার্মানি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের কথা বললেও জার্মানির পার্লামেন্ট সদস্যরা সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা সবসময়ই ইরানকে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে সৌদি অপরাধযজ্ঞকে ঢাকার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইরানভীতি সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ব্যবসাও জমজমাট করাও আমেরিকার আরেকটি উদ্দেশ্য। #   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০

ট্যাগ

২০১৮-০৯-২০ ১৬:২৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য