ইরানের আট বছরের প্রতিরক্ষা যুদ্ধ ছিল বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক দোসরদের বিরুদ্ধে ইরানের আপামর জনসাধারণের অকুতোভয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দামের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলেও বাগদাদকে সহযোগিতা করেছিল গোটা পশ্চিমা দুনিয়া।

ইরানি জনগণ আট বছরের ওই যুদ্ধে প্রমাণ করেছেন, তারা যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবেন।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ সম্পর্কে বলেন, প্রতিরক্ষা যুদ্ধে তার দেশের জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান ও আগামীর জন্য এ যুদ্ধ অনেক বড় অবদান রেখেছে।  ইরানি জনগণের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা শক্তিশালী হওয়া এবং ইসলামি বিপ্লব অক্ষুণ্ন থাকা হচ্ছে ওই যুদ্ধের সরাসরি অবদান। ওই যুদ্ধে ইরানি জনগণের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রবণতা তৈরি না হলে ইসলামি বিপ্লব আজ হুমকির মুখে পড়ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করছেন সর্বোচ্চ নেতা

প্রতিরক্ষা সপ্তাহ শুরুর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি জনগণের মধ্যে যতদিন এই বিপ্লবী চেতনা থাকবে ততদিন তারা কোনো আধিপত্যকামী শক্তিকে তাদের দেশের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ দেবে না।

আট বছরের প্রতিরক্ষা যুদ্ধে ইরান ধর্মীয় নৈতিকতা ও যুদ্ধের আইন-কানুন মেনে চলেছে। অন্যদিকে সাদ্দামের নেতৃত্বাধীন ইরাকি বাহিনী বহুবার যুদ্ধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ এবং বিভিন্ন শহরের বেসামরিক এলাকায় ব্যাপকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা ছিল সাদ্দম সরকারের মানবতা বিরোধী পদক্ষেপের দু’টি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।  আমেরিকার সমরাস্ত্র সহায়তা এবং কিছু আরব দেশের পেট্রোডলার নিয়ে সাদ্দাম ইরানের বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধ চালিয়ে যায়।

প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময়কার ইরানি যোদ্ধাদের ছবি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান চাপিয়ে দেয়া সেই যুদ্ধের সময় থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত অস্থিতিশীলতার হোতা বলে মনে করে। মার্কিন সরকার কখনোই মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে নিজের অশুভ লক্ষ্য চরিতার্থ করার কাজ থেকে বিরত থাকেনি। আর ওই যুদ্ধ থেকে ইরান যে শিক্ষা গ্রহণ করেছে তা হলো, বলদর্পী বাহিনীর সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রতি মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। #

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২২

ট্যাগ

২০১৮-০৯-২২ ১৭:৪৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য