ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের মাধ্যমে আমেরিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। তিনি ইরান সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের সঙ্গে বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।

এ সাক্ষাতে আলী শামখানি সৌদি আরব ও বাহরাইনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর কাছে ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রতি ইউরোপের কোনো কোনো দেশের সমর্থনের কারণে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কাছে ওই দেশগুলো সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

আমেরিকা গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো নানা উপায়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত রাখার কথা বললেও বাস্তবতা হচ্ছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় তারা এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে চ্যানেল ফ্রান্স ২৪ এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাথিও মাবেন বলেছেন, "যদিও ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপের পদক্ষেপ খুবই সীমিত ও দুর্বল কিন্তু তারাও বিশ্বে মার্কিন একাধিপত্য বা মোড়লিপনাসূলভ আচরণ বেশি দিন সহ্য করবে না।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান অবস্থায় ইউরোপ ধীর গতিতে এগোচ্ছে। তাদের সামনে এখন দু'টি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ইউরোপকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর। আর দ্বিতীয় পথ হচ্ছে, ইউরোপকে মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হবে। যদি তারা নতি স্বীকার করে তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল পরমাণু সমঝোতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। কারণ আমেরিকার কাছে নতি স্বীকার করা মানেই আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করতে হবে ইউরোপকে যার পরিণাম তাদের জন্য শুভ হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ

যাইহোক, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সব রীতিনীতির লঙ্ঘন। তা ছাড়া, এ নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের জনগণ। তাই এ ব্যাপারে ইউরোপের যেকোনো উদাসীনতা বা অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে ওই দেশগুলোর জন্যই ক্ষতি ডেকে আনবে। পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপ এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাতকারে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা খুবই ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

অবশ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ নিষ্ক্রিয় থাকলেও কিংবা ধীর গতিতে পদক্ষেপ নিলেও ইরান সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা সংকটের মুখে পড়লে ইউরোপের নিরাপত্তাও সংকটে পড়বে। আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতা ছাড়া নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্য কামনা করে তবে তারা ভুল করবে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০

 

ট্যাগ

২০১৮-১১-২০ ১৬:৪৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য