ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত আবারো তেহরানে ফিরে আসছেন। ইরানের সীমান্তবর্তী আহওয়াজ শহরে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার পর বিতর্কের জের ধরে ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত তেহরান ত্যাগ করেছিলেন।

ডেনমার্কে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোর্তাজা মোরাদিয়ান এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, "গতকাল মঙ্গলবার ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত ড্যানি আনানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত হয়েছে। তিনি বুধবার তেহরানে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এ পদক্ষেপ দু'দেশের মধ্যকার বিরাজমান অবিশ্বাস ও সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।"

প্রায় এক মাস আগে ডেনমার্ক সরকার ইরানের বিরুদ্ধে কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপনের পর তেহরানে নিযুক্ত ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত নিজ সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে পরামর্শের জন্য ইরান ত্যাগ করেছিলেন। ডেনমার্কের গোয়েন্দা বিভাগ দাবি করেছিল, গত ২১ অক্টোবর ইরানি বংশোদ্ভুত নরওয়ের একজন নাগরিককে ইরান বিরোধী আল আহওয়াজিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের বসবাস স্থলে ছবি তোলার অপরাধে আটক করা হয় এবং তার গোপন লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয়া হয়।

এমন সময় ড্যানিশ রাষ্ট্রদূতের তেহরান প্রত্যাবর্তনের খবর এল যখন ব্রাসেলস বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ডেনমার্কের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না যে, ইরান ও ডেনমার্কের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যে নাটক সাজানো হয়েছে তার পেছনে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। নেতানিয়াহু আগেই ইউরোপকে হুমকি দিয়েছিলেন, ইরানের পক্ষ থেকে ডেনমার্কে হামলা চালানো হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেছেন, গত ৪০ বছরে ইউরোপ ইরানের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে।

এদিকে, জার্মানে আটক ইরানি কূটনীতিক আসাদুল্লাহ আসাদিকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওই কূটনীতিককে আটক করা হয়েছিল। এ ঘটনাও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অষ্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড সফরের সময় ঘটানো হয়েছিল। এ ছাড়া, ইরানের প্রেসিডেন্টের ইউরোপ সফরের প্রাক্কালে প্যারিসের উপকণ্ঠে ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীর বার্ষিক সম্মেলনে বোমা পেতে রাখার চেষ্টার অভিযোগে বেলজিয়ামে ইরানি এক দম্পতিকে আটকের ঘটনা ঘটে। এইসব ঘটনার একই সঙ্গে ডেনমার্কেও ইরান বিরোধী নাটক সাজানো হয়েছিল। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ ইউরোপের ওই দেশগুলো দেখাতে পারেনি।

ইরানের সংসদের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান হাশমতুল্লাহ ফালাহাত পিশে এ ব্যাপারে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ডেনমার্ক সরকারের মিথ্যা অভিযোগ থেকে বোঝা যায়, আমেরিকার সবুজ সংকেতে ইউরোপের কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।

যাইহোক, ইউরোপের কোনো কোনো দেশ এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের আচরণে লিপ্ত যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা এবং পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে ধরে রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেহরানের জন্য বিশেষ প্যাকেজ প্রস্তাব তুলে ধরতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইরান বিরোধী নাটক সাজানোর অবসান ঘটবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১

 

 

ট্যাগ

২০১৮-১১-২১ ১৯:২০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য