ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারো তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে আমেরিকা। এমনকি এ ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশও আমেরিকার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষ বৈঠকের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদকে অপব্যবহার করে আমেরিকা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে পারবে না। আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে বেআইনি অভিহিত করলেও ইরানের এ কর্মসূচি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন নয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা এমন সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন যখন ওই প্রস্তাবে ইরানকে কেবল পরমাণুবাহী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এতে পরমাণু ওয়ারহেড স্থাপনের কোনো চিন্তা ইরানের নেই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ও ইউরোপ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অতি স্পর্শকাতরতা দেখাচ্ছে অথচ তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রকৃত হুমকি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন রয়েছে। ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে তাহলে তাদের এটা জেনে রাখা উচিত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় ইউরোপ এমনকি আমেরিকার শহরগুলোও নিরাপদ থাকতে পারবে না। আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইল এবং ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যত্র নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।

আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি বলে তুলে ধরে ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। দেশটি জানিয়েছে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা হলেও ইউরোপে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে তাতে পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক নিবন্ধে লিখেছেন, আমেরিকার এ ধরণের আচরণ বেআইনি এবং ইরানকে তারা কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রুগোজিন বলেছেন, ইরানকে অজুহাত করে আমেরিকা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

যাইহোক, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা দুটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে কার্যকর পন্থা বলে প্রমাণের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রশাসন। আর এ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন ইউরোপের সমর্থন। যদিও ইউরোপের সমর্থন তারা এখনো পায়নি। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫  

 

ট্যাগ

২০১৮-১২-০৫ ১৯:০৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য