২০১৮-১২-০৭ ১৮:০৩ বাংলাদেশ সময়

পাশ্চাত্য এবং তাদের আজ্ঞাবহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশ ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই ইরানের ক্ষতি করার জন্য সন্ত্রাসবাদকে সহায়তা দিয়ে আসছে।

এ লক্ষ্যে তারা ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠী থেকে শুরু থেকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা যুগিয়ে আসছে। সম্প্রতি এইসব দেশ ইরান বিরোধী আল আহওয়াজিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় এবং সর্বশেষ তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা ইরানের চবাহার বন্দর এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) এক সন্ত্রাসী ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের চবাহার বন্দর এলাকায় একটি পুলিশ ঘাঁটিতে গাড়ি বোমা হামলার চেষ্টা করেছিল। ওই সন্ত্রাসী গাড়ি বোমা নিয়ে ঘাঁটির মধ্যে প্রবেশের চেষ্টাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাধার সম্মুখীন হয়। এরপরই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এখন পর্যন্ত দুইজন শহীদ এবং নারী ও শিশুসহ ৪০জন আহত হয়। গাড়ি বিস্ফোরণের পর হামলাকারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, শত্রুরা ইরানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শত্রুরা আসলে ইসলামি ইরানের স্থিতিশীলতা ও শক্তিমত্বাকে সহ্য করতে পারছে না। কারণ ইরান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যা তাদের জন্য চপেটাঘাত। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র রমজান শরীফ বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, চবাহার বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার সাথে তিন অপশক্তি অর্থাৎ আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইলের হাত রয়েছে।

যাইহোক, ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশের সমর্থন এখন গোপন কোনো বিষয় নয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করারও হুমকি দেন। ইরানে এসব সন্ত্রাসী হামলাকে ধর্মীয় ও গোত্রীয় সংঘাত বলে তুলে ধরা শত্রুদের একটি প্রধান লক্ষ্য এবং এ ক্ষেত্রে আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইল একযোগে কাজ করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের হামলায় আমেরিকার হাত থাকার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ হাদি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, যেকোনো উপায়ে ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা হচ্ছে ট্রাম্পের অন্যতম একটি হাতিয়ার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন।

যাইহোক, সন্ত্রাসী হামলার কোনো সামরিক মূল্য নেই। আর এভাবে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে শত্রুরা কোনো দিনই ইরানের বিরুদ্ধে সফল হতে পারবে না। সন্ত্রাসীদের পেছনে যতবড় সমর্থনই থাকুক না কেন তাদেরকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাকুক না কেন শিগগিরি তাদেরকে চ'বাহারে হামলার খেসারত দিতে হবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭      

 

ট্যাগ

মন্তব্য