২০১৮-১২-১০ ১৭:৫৭ বাংলাদেশ সময়

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, সংঘাত ও মানুষের দুর্ভোগ ডেকে এনেছেন। তাই বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক শক্তি গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি এক টুইটার বার্তায় তেহরানে অনুষ্ঠিত ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও রাশিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকারদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সবার সম্মান প্রদর্শন, পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকারদের বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধ লড়াই এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ার এই ছয়টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকারদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাতে নিঃসন্দেহে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বিস্তার এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে।

তেহরানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ইহুদিবাদী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইসরাইলি দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্বেও তেহরান বৈঠককে সফল অভিহিত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে লিখেছে, এ থেকে বোঝা যায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। দৈনিকটি আরো লিখেছে, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ ধরণের বৈঠক আয়োজন করে ইরান প্রকৃতপক্ষে আমেরিকা ও তার মিত্রদের কোণঠাসা অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইলের এ দৈনিকের মতে, ইরান, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতির জন্য সুখকর নয়। কেননা এ দেশগুলো অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ায় তা এক সময় আমেরিকার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে তেহরান সম্মেলনের ব্যাপারে আমেরিকা, দখলদার ইসরাইল ও সৌদি আরব সন্তুষ্ট নয়। এমন সময় তেহরানে ছয়টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকারদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল যখন আফগানিস্তান, ইরাকসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে বছরের পর বছর ধরে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অরাজক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদও এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আমেরিকা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ ও রক্তপাত ঘটিয়েই চলেছে। এ কারণে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পাস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা খুবই জরুরি। ইরান মনে করে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে হবে যাতে বিদেশিরা হস্তক্ষেপ করার সুযোগ না পায়।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০    

 

ট্যাগ

মন্তব্য