২০১৯-০১-০৯ ১৭:৪০ বাংলাদেশ সময়

"আমেরিকা পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের পরিবর্তে উস্কানিমূলক নীতি গ্রহণ ও ইরান-আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।" ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এ কথা বলেছেন।

তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বিরামহীনভাবে ইরানের বিরুদ্ধে প্ররোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন যদিও তারা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ইরানের ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিকে অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। ইরান-আতঙ্ক ছড়ানোর মিশন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো সফর করছেন। গতকাল জর্দান সফরে গিয়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন।

বামে মাইক পম্পেও  এবং ডানে জন বোল্টন

আমেরিকা ইরানের মোকাবেলায় দেশটির ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য মিথ্যাচার করে চলেছে। অবশ্য আমেরিকার এ আচরণ কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই আমেরিকার প্রতিটি সরকার ইরানভীতি ছড়ানোর পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লব রপ্তানি, ইসলামি বিপ্লবের চিন্তাধারা ও আদর্শকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করা, ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্রের বিপদ থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরানোর জন্য ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রচার চালানো, পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলারে জন্য ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গত দুই বছর ধরে ইসরাইল ও সৌদি আরবের সহযোগিতায় ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। পরমাণু ইস্যুতে অপপ্রচার এবং ইরানভীতি ছাড়ানো তাদের প্রধান দুটি টার্গেট। বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল অনেক দিন ধরেই আমেরিকার পক্ষ থেকে নানামুখী হুমকির সম্মুখীন। মার্কিন ভ্রান্ত পররাষ্ট্রনীতি মূলত এই হুমকি সৃষ্টি করেছে। আর এটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য তারা ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক ঘনিষ্ঠ ও কাছের ব্যক্তিরাও ইরানভীতি ছড়ানোর নীতিতে বিশ্বাসী নয়। অর্থাৎ এটাকে তারা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন না।

আমেরিকা বহু বছর ধরে ইরানকে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছে এবং এভাবে তারা ইরান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার আসল চেহারাকে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইট-বার্তায় এ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।#     

 

ট্যাগ

মন্তব্য