২০১৯-০১-১৬ ২১:০৩ বাংলাদেশ সময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা।

বিশেষ করে বিপ্লবের চার দশকে ইরান কতোটা উন্নতি করলো, কোন্ কোন‌্ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলো সেসব নিয়ে গবেষণাধর্মী বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছিলেন তিনি। ইতোপূর্বে আপনারা দুটি পর্ব শুনে থাকবেন নিশ্চয়ই। আজকের পর্বেও আমাদের সঙ্গে থাকছেন এই ইতিহাসবিদ।

আজকের মূল আলোচনায় যাবার আগে ইরানের সাম্প্রতিক একটি খবর আপনাদের শোনাতে চাই। ইমাম খোমেনী মহাকাশ কেন্দ্র বা আইকেএসসি থেকে সম্প্রতি 'সিমোরগ' উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ‘সিমোরগ’ হলো ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি উপগ্রহ বহনে সক্ষম রকেট। ২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের উপগ্রহ ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বাকাশের কক্ষপথে বয়ে নিয়ে যেতে পারবে এ রকেট। পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকা ইরানের এই উপগ্রহ পরিবাহী রকেট ‘সিমোরগ’ পরীক্ষার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাদের উদ্বেগের কারণ হলো বিজ্ঞানে ইরানের অগ্রগতি এবং পশ্চিমের ওপর তেহরানের নির্ভরতা না থাকা।

প্রকৃতপক্ষে কোনো মুসলিম দেশেরই উন্নতি চায় না শত্রুরা। ইমাম খোমেনি (রহ) ইরানের উন্নয়নের ধারায় একটা বিপ্লব এনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সেই উন্নয়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন: ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই উন্নতি শত্রুদের সহ্য হয় না বলেই  সামান্য একটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দেখেই তারা চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টও এই মর্মে বলেছেন,বিজ্ঞানের যে-কোনো ক্ষেত্রেই ইরান এগিয়ে যাবে ততই শক্তিশালী এবং গৌরবান্বিত হয়ে উঠবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এমন সফলতা ইরানের ক্ষমতা ও সম্মানকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। মহাকাশ বিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি তাই বর্তমানে ইরানের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা ইরানের শত্রুদের কাছে যতই গা জ্বালার কারণ হোক না কেন।  বিপ্লব পরবর্তীকালে ইরানের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহের কথা জানালেন তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে:   

  

ড. সিদ্দিক

ড. সিদ্দিক আরেকটু অগ্রসর হয়ে জানালেন বিশ্বব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নে ইরানের অবদান ও ভূমিকার কথা। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অসাধারণ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন: এ ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ইরানই সবচেয়ে প্রাগ্রসর। পারমাণবিক ক্ষেত্রেও ইরানের অগ্রগতির কথা বললেন তিনি: 

পারমাণবিক ক্ষেত্রে ইরানের তৎপরতার সূচনা এবং পরবর্তীকালে আমেরিকাসহ তাদের পাশ্চাত্য মিত্রদের ইরান বিরোধী তৎপরতার কারণও তিনি উল্লেখ করলেন অকপটে। ইরানের ওপর যত অবরোধ চাপাতে দেখছি আমরা, তার কারণ আর কিছুই নয়, ইরানকে দমিয়ে রাখতে না পারা। এই সত্যটিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সংক্ষেপে বলেছেন তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেছেন:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

"আমেরিকার সঙ্গে আমাদের যে সমস্যা বা সংকট রয়েছে,  সেগুলোর বেশিরভাগই সমাধানযোগ্য নয়। এর কারণ হলো আমাদের সঙ্গে আমেরিকার সমস্যা আমরা নিজেরাই, অর্থাৎ স্বয়ং ইসলামি প্রজাতন্ত্র"। তবে মার্কিন শত্রুতা কিংবা বাধাবিপত্তিতে নির্ভীক ইরান। সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন:

আমরা এইসব শত্রুতা মোকাবেলায় আল্লাহর রহমত ও সহায়তায় আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিরোধ শক্তি সম্পন্ন হয়েছি। আমাদের এই আত্মবিশ্বাস আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং দৃঢ়তর হয়েছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/১৬                       

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য